বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে নলচিরা ও চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় শত শত যাত্রী ও বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়েছে। বিশেষ করে কাঁচামাল ও পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক আটকে থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন পণ্য সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করায় দুর্ঘটনা এড়াতে গত দুই দিন ধরে সি-ট্রাক, ট্রলার ও ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এতে চেয়ারম্যান ঘাটে হাতিয়ামুখী শত শত ট্রাক ও পিকআপ আটকে আছে, যার বড় একটি অংশে রয়েছে ফলমূল, শাকসবজি ও মাছসহ দ্রুত পচনশীল কাঁচামাল।
ঘাটে আটকে থাকা এক কাঁচামাল সরবরাহকারী রহিম উদ্দিন বলেন, ‘পেকুয়ালি ও কাঁচামাল নিয়ে গত দুই দিন ধরে চেয়ারম্যান ঘাটে বসে আছি। গরমে পিকআপে থাকা সবজি ও ফলমূল নষ্ট হতে শুরু করেছে। সময়মতো হাতিয়ায় পৌঁছাতে না পারলে লাখ টাকার লোকসান গুনতে হবে।’
আরেক ট্রাকচালক আলতাফ হোসেন বলেন, ‘ঘাটে থাকার ভালো কোনো জায়গা নেই। শৌচাগারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই। বৃষ্টি ও বাতাসের মধ্যে তেলের খরচ আর খাবারের বাড়তি টাকা গুনতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।’
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি-এর চেয়ারম্যান ঘাট এলাকার ইজারাদার ও ফেরি ডাক কর্মকর্তা জানান, সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মেঘনা ও তৎসংলগ্ন নদী অনেক উত্তাল থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরি ও সি-ট্রাক বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত নৌযান চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে।
নোয়াখালী জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষক কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে নদী ও সমুদ্র এলাকা উত্তাল রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল থাকবে এবং বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


