রাজধানীর রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার একটি মাদ্রাসা থেকে শিশু শিক্ষার্থী মো. নাঈম শেখের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার শিক্ষক হাফেজ মো. জাকারিয়ার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন, কারাগার থেকে মামলার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হারুনর রশীদ খান রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে দেওয়ান ইমদাদুল আলম রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শিক্ষক জাকারিয়ার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
অন্য আসামি শিশু হওয়ায় তার রিমান্ডের বিষয়ে শুনানির জন্য তাকে শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গত ৩ আগস্ট দুপুরে রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার রওয়াজাতুল উলূম হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে শিশু শিক্ষার্থী নাঈম শেখের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই দিন নাঈমের মা নাজমা বেগম দুইজনকে আসামি করে কদমতলী থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে রাতে মাদ্রাসা থেকে মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ৪ আগস্ট আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
পরদিন ৫ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার এসআই আমজাদ হোসেন আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করেছিল আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নাজমা বেগমের দুই ছেলে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। বিভিন্ন কারণে আসামিরা নাঈমকে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তার মা। বিষয়টি নাঈম তার মাকে জানালে তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসতে চান নাজমা। তবে আসামিরা নাঈমকে ছাড়পত্র দেবেন না বলে জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নাঈম মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতে না চাওয়ায় আসামিরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং নির্যাতন চালাতে থাকেন। ঘটনার দিন দুপুর ১টার দিকে নাঈম শিক্ষকদের জানায়, সে আর মাদ্রাসায় পড়বে না। এ সময় তাকে মারধর করা হয়।
পরে দুপুর ১টা থেকে আড়াইটার মধ্যে আসামিরা নাঈমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


