লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৭০তম আসরের অফিশিয়াল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের “দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড”। অন্য আরও নয়টি চলচ্চিত্রের সঙ্গে সেরা হওয়ার প্রতিযোগিতায় থাকবে এই চলচ্চিত্র। আগামী ৭ থেকে ১৮ অক্টোবর এই উৎসব হবে।
সোমবার সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কারের জন্য প্রতিযোগিতা করা ১০টি চলচ্চিত্রের তালিকা প্রকাশ করেছে লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আয়োজক বিএফআই। এলএফএফ জুরি বোর্ড বিজয়ী চলচ্চিত্র নির্বাচন করবে।
মনোনীত চলচ্চিত্রগুলো যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ব্রাজিল, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, জাপান এবং পোল্যান্ড সহ মোট ১০টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। রুবাইয়াত হোসেন নিজে বাংলাদেশি হলেও তার “দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড”কে ফ্রান্স-বাংলাদেশ-পর্তুগাল-নরওয়ে-জার্মানির বহুদেশীয় চলচ্চিত্র হিসেবে উৎসবে স্থান দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে তৈরি এই আকর্ষণীয় ও নারীবাদী ‘বডি হরর’ চলচ্চিত্রটিতে দেখা যায়, নিজের স্বপ্নের বিয়ে ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে একজন হবু কনেকে সৌন্দর্য চর্চার নানা আচার-অনুষ্ঠান, সামাজিক বিধিনিষেধ এবং অলৌকিক শক্তির সাথে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। জাইনিন তার আসন্ন বিয়ে নিয়ে অত্যন্ত উত্তেজিত। কিন্তু তাকে আরও শুকনো, ফর্সা, মসৃণ এবং কনের উপযোগী করে তোলার জন্য পরিকল্পিত নানা রূপচর্চার চাপে সে শীঘ্রই হাঁপিয়ে ওঠে। এই অনীহা ও প্রতিরোধ তার শরীরে প্রভাব ফেলতে শুরু করে এবং সে অদ্ভুত সব শারীরিক পরিবর্তন ও অমঙ্গলের আলামত প্রত্যক্ষ করতে থাকে।
মনোনীত অন্য ছবিগুলো হচ্ছে “সেভেন মাইলস আউট” (যুক্তরাজ্য, পরিচালক: ক্যারল মরলি); “অ্যাক্ট থ্রি” (আয়ারল্যান্ড-যুক্তরাজ্য, পরিচালক: ক্রিস্টিন মলয় এবং জো ললর); গ্ল্যাক্সো (ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, পরিচালক: বেঞ্জামিন নাইশতাৎ); ইম্পেরিয়াম (জার্মানি-ফ্রান্স-ইতালি-লিথুয়ানিয়া, পরিচালক: সের্গেই লোজনিতসা); কেতিচে (ইতালি, পরিচালক: জিওভান্নি তরতোরিচি); লুক ব্যাক (জাপান, পরিচালক: হিরোকাজু কোরে-এদা); মাই নোটস অন মার্স (হাঙ্গেরি-অস্ট্রিয়া, পরিচালক: লিলি হরভাট); দ্য ইডিয়টস (যুক্তরাজ্য-পোল্যান্ড, পরিচালক: মালগোঝাতা শুমাভস্কা, মিশাল এঙ্গলার্ট) এবং ওম্যান আননোন (ডেনমার্ক-লাতভিয়া-সুইডেন, পরিচালক: মে এল-তুখি)।
উৎসব পরিচালক ক্রিস্টি ম্যাথেসন বলেন, “আমরা যখন বিএফআই লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৭০তম আসর উদযাপন করছি, তখন উৎসবের পুরোনো বা অভিজ্ঞ নির্মাতাদের পাশাপাশি নতুনদেরও অফিশিয়াল কম্পিটিশনে দেখতে পাওয়া আমাদের জন্য আনন্দের।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ২০২৬ সালের এই প্রতিযোগিতা বিভাগটি বিভিন্ন নির্মাণশৈলীর এক দারুণ সমাহার পর্দায় নিয়ে আসছে। প্রতিবারের মতো এবারও এই কাজগুলোর মুখোমুখি হওয়া আমার এবং আমার দলের জন্য সৃজনশীলভাবে বেশ উদ্দীপনাপূর্ণ ছিল—আগামী অক্টোবরে দর্শকদের সামনে এগুলো তুলে ধরতে আমরা সত্যি উচ্ছ্বসিত।”


