প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া ‘প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদারকরণ’ প্রকল্পের মেয়াদ আবারও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। দুই দফা মেয়াদ বাড়িয়েও কাজ শেষ হয়নি। এবার তৃতীয়বার সংশোধন এনে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে সাড়ে তিন বছরের প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগছে সাড়ে সাত বছর।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির তৃতীয় সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অবকাঠামো উন্নয়ন, ভেটেরিনারি ও সম্প্রসারণ সেবা বাড়ানো, খাদ্য নিরাপত্তা উন্নয়ন এবং নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়াতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। ২২০ কোটি ৫৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর একনেক অনুমোদন দেয়।
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম সংশোধনে মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ২৫২ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনে মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। ব্যয় ৩৮ কোটি ৭৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা কমিয়ে ২১৩ কোটি ৬৯ লাখ ৭৪ হাজার টাকা করা হয়।
এবার তৃতীয় সংশোধনে মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পিইসি সভার সুপারিশে ব্যয় ৪৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা কমিয়ে ২১৩ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মেয়াদ বাড়ানোর কারণ হিসেবে প্রকল্প প্রস্তাবে ভবন নির্মাণের চূড়ান্ত নকশা, ঠিকাদার নির্বাচন ও চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্বের কথা বলা হয়েছে। নতুন ভবনের জায়গায় থাকা পুরোনো দ্বিতল ভবন অপসারণেও সময় লেগেছে। ভবনটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হওয়ায় অনাপত্তিপত্র ও নিলাম প্রক্রিয়া শেষ করে সেটি সরাতে হয়েছে।
নির্মাণ শুরুর আগে বিকল্প গেট ও রাস্তা তৈরি, সাইট অফিস ও শ্রমিকদের শেড নির্মাণ, পুরোনো স্থাপনা অপসারণ এবং বিদ্যুৎ, পানি ও টেলিফোনের নিরাপদ ব্যবস্থাপনাতেও সময় লেগেছে।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মূল ভবনের কাঠামোগত কাজ শেষ হলেও স্যানিটারি, থাইগ্লাস, প্লাস্টার, টাইলস, পেইন্টিং, সংযোগ সড়ক, প্রধান ফটক, গার্ডেনিং ও ইলেকট্রো-মেকানিক্যালসহ বিভিন্ন কাজ বাকি রয়েছে। মে ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। ব্যয় হয়েছে ১২৪ কোটি ৮৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা। ভৌত অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ।
মূল ড্রয়িং ও ডিজাইনের বাইরে অতিরিক্ত কাজের প্রয়োজন হয়েছে বলেও প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিকল্প রাস্তা তৈরি, পানির রিজার্ভ ট্যাংক স্থানান্তর, ভবনের চারপাশে মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ও ভ্যারিয়েশন কাজ রয়েছে। এসব কাজে গণপূর্ত বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী অতিরিক্ত ৭৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা প্রয়োজন হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, গত ১৯ মে পিইসি সভায় তৃতীয় সংশোধন প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়। সভায় ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়ে সর্বশেষবারের মতো অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে অসমাপ্ত কাজ রেখেই প্রকল্প শেষ করার কথা বলা হয়েছে। বিলম্বের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অবকাঠামো উন্নত হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মপরিবেশ ও কর্মদক্ষতা বাড়বে। ভেটেরিনারি ও সম্প্রসারণ সেবাও ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।


