জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে। তিন বছরে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২১ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ এখন প্রায় ছয় বছরে ঠেকেছে। একই সঙ্গে প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে ১০১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাব বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।
বাস্তবায়নকারী সংস্থা রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতীয় ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা প্রকল্প এলাকা ছেড়ে যান। ভারতের এক্সিম ব্যাংকের ঋণের অর্থ ছাড় কয়েক মাস বন্ধ ছিল। বন্যার কারণেও নির্মাণকাজ ব্যাহত হয়। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধিও প্রকল্প ব্যয় বাড়ার অন্যতম কারণ।
প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে প্রথম সংশোধনীতে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট করা হয়।
দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় ১ হাজার ৬১২ কোটি ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মূল ডিপিপিতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৫১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনীতে তা কমে ১ হাজার ৫১০ কোটি ১৬ লাখ টাকা হয়। নতুন প্রস্তাবে প্রথম সংশোধিত ব্যয়ের তুলনায় ১০১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বা ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ বাড়ছে।
প্রকল্প নথি অনুযায়ী, ব্যয় বৃদ্ধির বড় অংশ আসছে বৈদেশিক ঋণ থেকে। প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ১৪০ কোটি ১৮ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৪৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিপরীতে সরকারি অর্থায়ন ৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।
প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে আরপিসিএল জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ইপিসি ঠিকাদারের ভারতীয় প্রতিনিধিরা ও ভূমি উন্নয়ন-বাঁধ নির্মাণের স্থানীয় উপঠিকাদার প্রকল্প এলাকা ছেড়ে যান। পরে নতুন উপঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ শুরু করতে প্রায় চার মাস সময় লাগে। এতে ভূমি উন্নয়ন ও বাঁধ নির্মাণের কাজ পিছিয়ে যায়।
এ ছাড়া ইপিসি ঠিকাদারের চলতি বিলের বিপরীতে ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত অর্থ ছাড় বন্ধ ছিল। এতে নির্মাণকাজ আরও বিলম্বিত হয়।
প্রকল্পের আওতায় মাদারগঞ্জ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ঘাটাইল গ্রিড উপকেন্দ্র পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজও রয়েছে। প্রকল্প নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্যার কারণে ঠিকাদার সঞ্চালন লাইনের পাইলিং ও কাস্টিংয়ের কাজ করতে পারেননি।
ব্যয় বৃদ্ধির আরেকটি কারণ বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি। অনুমোদিত ডিপিপি ও প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা ধরা হয়েছিল। দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপিতে সাপ্লিমেন্টারি লোন অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী প্রতি ডলারের বিনিময় হার ধরা হয়েছে ১১০ টাকা ৫০ পয়সা।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৩৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ভৌত অগ্রগতি ৫৬ দশমিক ১৫ শতাংশ।
আরপিসিএল বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ১০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। কেন্দ্রটি থেকে বছরে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৭৪ মেগাওয়াট ঘণ্টা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে। কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে। জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়বে।


