টানা ছুটিতে কক্সবাজারে ৫ লাখ পর্যটক সমাগমের আশা

টানা ছুটিতে কক্সবাজারে ৫ লাখ পর্যটক সমাগমের আশা
টানা ছুটিতে পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ছয়দিনের ছুটিতে পর্যটন শহর কক্সবাজার পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠেছে। শহরজুড়ে এখন দেশের নানাপ্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় পা ফেলার ঠাঁই নেই।

তবে হঠাৎ হঠাৎ করে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় পর্যটক-দর্শনার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। সাগরে নিম্নচাপ ও উপকূলে বৃষ্টি পর্যটকদের আনন্দ উদযাপনে ভাটা ফেলছে। এরই মধ্যে কক্সবাজার নদীবন্দরকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিস।

মঙ্গলবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর-বিকাল পর্যন্ত সময়ের সিডিউল অনুযায়ী ভ্রমণপ্রেমীরা কক্সবাজারে এসে পৌঁছেছেন। বিকাল থেকে সন্ধ্যা-রাত পর্যন্ত নানা বয়সের পর্যটকে লোকারণ্য হয়েছে সৈকতের বেলাভূমি ও পর্যটনস্পটগুলো।

টানা ছুটিতে পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ছবি: টাইমস

পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছুটির সুযোগে হাজার হাজার মানুষ ঢুকছে কক্সবাজারে। তারা পাঁচ লাখের বেশি পর্যটক উপস্থিতির আশা করছেন।  হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউসগুলোতে মিলছে না কোন ফাঁকা রুম। অতিরিক্ত পর্যটকের কারণে আবাসিক হোটেলগুলো নিজেদের ব্যবস্থাপনা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

শহর ও জেলাজুড়ে টইটম্বুর পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক হয়ে দায়িত্বপালন করছে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশও। মাঠে টহল দিচ্ছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ব্যবসায়ীদের মতে, টানা ছুটিকে টার্গেট করে পূর্বপরিকল্পনা মতোই বিপুলসংখ্যক পর্যটক এসেছেন কক্সবাজারে। কেউ এসেছেন মঙ্গলবার রাতে, আবার কেউ এসেছেন বুধবার সকাল-বিকাল ও রাতে। আগে থেকেই পর্যটনকেন্দ্রিক পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্টে আগাম বুকিং করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে পরিবার নিয়ে আসা আবদুল মোহাইমিন বলেন, ‘প্রবাস থেকে সপ্তাহখানেক আগে ফিরেছি। পরিবারের ইচ্ছেতে টানা ছুটিতে সবাইকে নিয়ে কক্সবাজারের ওশান প্যারাডাইসে উঠেছি। পুরো হোটেল পর্যটকে ভর্তি বলে মনে হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

ওশান প্যারাডাইসের বিপণন ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নুর সোমেল জানান, এবারের পর্যটন মৌসুম বন্ধ দিয়ে শুরু হয়েছে। মৌসুমে নিত্যদিন কক্সবাজারে পর্যটক উপস্থিতি থাকছে। দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এক সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ বেড়াতে এসেছেন।

হঠাৎ করে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হলে পর্যটক-দর্শনার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ছবি: টাইমস

হোটেল-মোটেলগুলোতে লোক সমাগম বেড়েছে। এই সমাগম আগামী দিনগুলোতে কতটা থাকবে তা দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেন কলাতলীর সী নাইট গেস্ট হাউজের ব্যবস্থাপক শফিক ফরাজী।

অপরদিকে, পর্যটকদের রক্ষায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। তবুও পর্যটকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে মাইকিং করছেন জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীরা।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দায়িত্বপালন করা সী সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার মোহাম্মদ ওসমান বলেন, বিশ্ব পর্যটন দিবস থেকেই কক্সবাজারে পর্যটক আগমন ঘটছে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

‘প্রতিদিন সকাল থেকেই ঢেউয়ের সঙ্গে খেলা করছেন পর্যটকরা। আনন্দে আত্মহারা হয়ে অনেকে বিপৎসীমার বাইরেও চলে যান। আমরা তাদের কিনারায় আনতে কাজ করার পাশাপাশি নিরাপদ থাকতে বারবার সতর্ক করছি’ বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার ট্যুরস অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিল্কী বলেন, ‘শুধু কক্সবাজার নয়, ইনানী-হিমছড়িসহ সব পর্যটন স্পটে পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে। মৌসুমের যাত্রাটা আমাদের আশার আরো বাড়িয়েছে।’

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আপেল মাহমুদ জানান, যে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে পর্যটনস্পটগুলো। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত সাধারণ চিকিৎসা ও খাবার পানির ব্যবস্থা রয়েছে তথ্যকেন্দ্রগুলোতে।

‘মঙ্গলবার থেকেই সৈকতের সব পয়েন্টে লোকসমাগম বেড়েছে। তবে সুগন্ধা, লাবনী ও কলাতলী পয়েন্টে পর্যটক সমাগম একটু বেশি। তাই সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে তথ্যকেন্দ্র বসানো হয়েছে। কোথাও পর্যটক হয়রানির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মাঠে কাজ করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত’ বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজারের নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর