২৮ বছর আগের একটি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে হাজিরা দিয়ে গিয়েছিলেন তারিক সাইফ মামুন। সেখান থেকে ফেরার পথেই গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে।
পুলিশ বলছে, নিহত মামুন একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় ২০ বছরের বেশি সময় কারাভোগ করে ২০২৩ সালে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে মামুনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জাহিদ আমিন ওরফে হিমেলকে (২৫) ১৯৯৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে মোহাম্মদপুর পিসি কালচার হাউজিং এলাকায় গুলি করে খুন করা হয়। সেদিন সঙ্গে থাকা হিমেলের বন্ধু সাইদও আহত হন। এ ঘটনায় হিমেলের মাত জাফরুন নাহার সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর তারিক সাইফ মামুনসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, মাসুদ ওরফে নাজমুল হোসেন, রতন, ইমন, হেলাল ও ওসমান।
ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মমিনুন নেসারের আদালতে এদিন মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজিরাও দেন মামুন। তবে এদিন কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হয়নি।
সে কারণে আদালত আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করে আদালত। পরে আদালত থেকে বের হয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে যান মামুন।
ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১০টা ৫১ মিনিটের দিকে ন্যাশনাল হাসপাতাল থেকে মামুন বের হচ্ছিলেন। প্রধান ফটক পার হয়ে একটু সামনে রাস্তায় গিয়ে দৌড় দিয়ে আবার হাসপাতালে ঢুকে পড়েন। তখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজনকে দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা যায়।
হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মো. তারেক জানান, দুইজন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত মামুনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তবে গুলি গিয়ে লাগে হাসপাতালের জানালার গ্লাসে। পরে তারা আরও পাঁচ রাউন্ড গুলি করে। তিনটি গুলি মামুনের শরীরে বিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়, তবে অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামুনের আইনজীবী মেহেদী হাসানও জানালেন, আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা।
মামুন কেন হাসপাতালে গিয়েছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা জানা নেই। আমার অন্য মামলা থাকায় আমি চলে গিয়েছিলাম। মামুনও আদালত থেকে বের হয়ে যান।’
মামুনের খালাতো ভাই হাফিজ বলেন, ‘আমার ভাই একজন সাধারণ মানুষ। কী কারণে তাকে কারা হত্যা করলো আমি জানি না। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। কারা তাকে হত্যা করেছে, কী কারণে করেছে এ বিষয়ে আমার ধারণা নেই।’
অবশ্য এর আগেও মামুনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় ২০ বছরের বেশি সময় কারাভোগ করে ২০২৩ সালে জামিনে মুক্তি পান মামুন। এর তিন মাসের মাথায় তেজগাঁও বিজি প্রেস এলাকায় তাকে হত্যার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা।
সে সময় রাস্তার ওপর মামুনের গাড়ি আটকে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে ভুবন চন্দ্র শীল নামে এক আইনজীবী গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
হামলার লক্ষ্যে থাকা মামুনকে খুন করতে না পারলেও সে সময় চাপাতি দিয়ে কোপ মারে হামলাকারীরা। মামুন সে সময় পুলিশকে বলেছিলেন, ‘তেজগাঁওয়ের ওই হামলার পেছনে আরেক তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের হাত রয়েছে।’
মামুনের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীও এই ঘটনার সঙ্গে ইমনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন।


