সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চাকরি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার লিখিত নিশ্চয়তা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
পে কমিশন শিগগিরই এটি বাস্তবায়ন করবে এমন শর্তে সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
সোমবার রাতে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এসব তথ্য জানান শিক্ষক নেতারা। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠকে শিক্ষকদের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন আবুল কাশেম, শামসুদ্দিন মাসুদ, মাহবুবর রহমান ও কামরুন্নাহার লিপিসহ ৯ জনের একটি প্রতিনিধি দল। সরকারের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
বৈঠক শেষে শিক্ষক নেতা কামরুন্নাহার লিপি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেডে আছেন। তাই সহকারী শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে খুশি আমরা।’
‘সে কারণে মঙ্গলবার থেকে সব কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছি আমরা।’
এ বিষয়ে চাইলে অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান বলেন, ‘বেতন গ্রেড ১১তম করার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি অর্থ বিভাগ জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠিয়েছে। বেতন কমিশন থেকে সুপারিশ এলেই অর্থ বিভাগ এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।’
চাকরিতে দশম ও ১৬ তম বছরে উচ্চতর গ্রেডের নিশ্চয়তার বিষয়ে তিনি জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রস্তাবনা করলে অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে শনিবার থেকে শিক্ষকদের চারটি সংগঠন যৌথভাবে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামের একটি মোর্চার ব্যানারে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। তাদের দাবিগুলো হলো- দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা, চাকরির দশম এবং ১৬তম বছরে উচ্চতর গ্রেড এবং শতভাগ বিভাগীর পদোন্নতির নিশ্চয়তা।
শনিবার বিকালে শাহবাগে ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচি পালন করার সময় শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এসময় দুই শতাধিক শিক্ষক আহত হন। শতাধিক শিক্ষক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এসময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় পাঁচ শিক্ষককে।
আটক শিক্ষকদের মুক্তির দাবিতে রাতেই দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি ঘোষণা করেন শিক্ষকরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, ২০ ঘণ্টা আটক রাখার পর রোববার দুপুরে আটক শিক্ষকদের ছেড়ে দেয় শাহবাগ থানা। এরপর সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষক নেতারা।
রোববার রাতে বৈঠক শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সচিব প্রস্তাব দেন, সোমবার বিকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকের পর শিক্ষকদের দাবির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবারের জন্য কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন শিক্ষকরা। তবে তাদের অবস্থান কর্মসূচি বহাল ছিল।


