রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিবাদ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মাহিদুল ইসলাম।
রোববার নিউগিনি প্রপার্টিজ পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সন্মেলনে তিনি এ কথা জানান। শনিবার রাতে ওই একই ভবনে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়।
মাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল রাতের ঘটনায় কিছু লোক দলবদ্ধভাবে এখানে ভাঙচুর করেছে। এই ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানার অফিসার ইনচার্জ, ইন্সপেক্টর তদন্ত, ইন্সপেক্টর অপারেশন এবং অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা দ্রুত এসে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। রাতেই অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অর্থাৎ তিনজনকে এরইমধ্যে গ্রেপ্তার করেছি। এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান। যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে পারব।’
‘আপনার কি মনে হচ্ছে না রাজধানীটা একটা লুটের এবং দখলের শহরে পরিণত হয়েছে? নিউগিনি, রাড্ডা হাসপাতাল, মোহাম্মদপুর… একের পর এক চলছেই’ সাংবাদিকের এমন এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এখানকার যে ঘটনা, আমি এই ঘটনাটায় পুরো টিম নিয়ে পরিদর্শনে এসেছি, তদন্ত করেছি। প্রতিটি ঘটনা ঘটলেই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
হামলাকারীদের পরিচয় জানতে চাইলে মাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখনো বিষয়টি তদন্ত করছি। দলবদ্ধভাবে লোকজন এসেছে, সে কারণে আমরা তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তিনজনের একজনের নাম- মামুন, তার বাড়ি গফরগাঁও। তিনি ভাষানটেক বস্তিতে থাকে। একজনের নাম আসলাম, তার বাড়ি টাঙ্গাইল। তিনি অটোচালক। আরেকজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি, তার নাম মুন্না। তিনি ভাষানটেক বস্তিতে থাকে।’
হামলার কারণ জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করে, হয়তো আরও তথ্য পেলে আপনাদের সুস্পষ্ট করে বলতে পারব।’
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এটা একটা আবাসন সংক্রান্ত ব্যবসা এবং এখানে এতগুলো লোক একসঙ্গে আসা, দলবদ্ধভাবে এসেছে এবং রাতের বেলা। সে কারণে হয়তো জমিকে কেন্দ্র করে, জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিবাদ থাকতে পারে। এটি যেহেতু তদন্তাধীন আছে, আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
মূল বিবাদ কার সঙ্গে সে বিষয়ে ডিএমপি কর্মকর্তা সুস্পষ্ট তথ্য জানাতে পারেননি।
এ ঘটনায় চাঁদাবাজি সম্পর্কে যে দাবির কথা উঠেছে তা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ব্রাউন ফিশ স্টুডিওর কর্ণধার সালমান মুক্তাদিরের কাছ চাওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে এই মুহূর্তে নেই। আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এটা জমিকে কেন্দ্র করে বিবাদমান গ্রুপের মধ্যে হয়তো হতে পারে। আমরা তদন্ত করলেই জানতে পারব।’


