রাজধানী ঢাকার ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজ ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
রোববার সকালে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন জানান, শনিবার মধ্যরাতে হামলার সময় ঘটনাস্থল থেকেই তাদের আটক করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে আটকদের নাম পরিচয় জানায়নি পুলিশ।
তিনি বলেন, ‘হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। আমরা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’
ওসি আরও বলেন, এই হামলা-ভাঙচুর শুধু কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হয়নি, নিউ গিনি প্রপার্টিজের অনেক কিছুই ভাঙচুর হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। অভিযুক্তদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে ডিএমপির গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক বলেন, ‘ওইখানে নিউ প্রপার্টি আছে। মূলত ওইখানে দুইটা পক্ষ আছে। আরেকজনের একটা জমি আছে। এক পক্ষ নাকি গেট দিয়ে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছে না। যে পক্ষ তার জমিতে যেতে পারছেনা তারা লোকজন নিয়ে এসেছে। আর এই দুই পক্ষে ঝামেলার মধ্যে পরে গেছে সালমান মুক্তাদিরের এই স্টুডিও। ওনারাই ওই লোকজন নিয়ে এসে ভাঙচুর করেছে।’
এর আগে সালমান মুক্তাদির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি লাইভে তার ‘ব্রাউন ফিশ’ স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের চাঁদা না দেওয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই হামলা চালানো হয়।
নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, জমি দখলের উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল এ হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, হামলাকারীরা প্রকল্পের প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ লুট করেছে এবং পুরো প্রকল্প এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভাষানটেক এলাকার কিশোর গ্যাং ও ভাড়াটে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে একটি অপরাধী চক্র এ হামলা চালিয়েছে।
নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, হামলার সময় সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি ছোড়েন। এ ঘটনায় প্রকল্পের প্রকৌশলী পারভেজ গুরুতর আহত হন। মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও জানান, হামলায় কয়েকজন নির্মাণশ্রমিকও আহত হয়েছেন। নিউ গিনি প্রপার্টিজের চেয়ারম্যানের অভিযোগ, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এর আগেও চাঁদাবাজি ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে মামলা এবং সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।


