ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি প্রপার্টিজে শনিবার গভীর রাতে হামলা, ব্যাপক লুটপাট ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রকল্পের কার্যালয় ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর ও সিসিটিভি (নিরাপত্তা) ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার আগে থেকেই আবাসন প্রকল্পটির কাছে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ডিউটি অফিসার সরোয়ার জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অতিরিক্ত উপকমিশনারসহ (এডিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
অভিযানের সময় পুলিশের কেউ হতাহত হয়েছেন কি না—এমন তথ্যের বিষয়ে ডিউটি অফিসার সরোয়ার বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।’
নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, জমি দখলের উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল এ হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, হামলাকারীরা প্রকল্পের প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ লুট করেছে এবং পুরো প্রকল্প এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ভাসানটেক এলাকার কিশোর গ্যাং ও ভাড়াটে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে একটি অপরাধী চক্র এ হামলা চালিয়েছে।
নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, হামলার সময় সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি ছোড়েন। এ ঘটনায় প্রকল্পের প্রকৌশলী পারভেজ গুরুতর আহত হন। মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও জানান, হামলায় কয়েকজন নির্মাণশ্রমিকও আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনজন সন্দেহভাজনকে পিস্তলসহ আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নিউ গিনি প্রপার্টিজের চেয়ারম্যানের অভিযোগ, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এর আগেও চাঁদাবাজি ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে মামলা এবং সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।


