বাগেরহাটের সংসদীয় ৪টি ও গাজীপুরে ৫টি আসন বহাল থাকবে বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। বাগেরহাটের সংসদীয় আসন চারটি থেকে কমিয়ে তিনটি করার নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
এর ফলে বাগেরহাট জেলার চারটি আসনই বহাল থাকছে। একইসঙ্গে আদালত গাজীপুরে ছয়টির পরিবর্তে পাঁচটি সংসদীয় আসন থাকবে বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।
পৃথক দুটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সল হাসান আরিফ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মুহাম্মদ জাকির হোসেন। তিনি বলেন, বাগেরহাটে ৪টি আসন ছিল, তিনটি কখনো ছিল না। চলতি বছর ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন অন্যায়ভাবে খসড়া প্রজ্ঞাপন জারি করে।
চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী, বাগেরহাট সদর, চিতলমারী ও মোল্লাহাট নিয়ে বাগেরহাট-১; ফকিরহাট, রামপাল ও মোংলা নিয়ে বাগেরহাট-২ এবং কচুয়া, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা নিয়ে বাগেরহাট-৩ গঠিত হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আমরা আপত্তি দিয়েছিলাম। পরে ২৫ আগস্ট শুনানি হয়েছিল এবং ৪ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করে। সেখানে বাগেরহাটের একটি আসন কেটে দিয়েছিল। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করা হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ সাল থেকে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন হয়ে আসছিল।
এদিকে, গাজীপুরে ছয়টি না ৫টি আসন বহাল থাকবে বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। এই দুই রায়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে করা আসন পুনর্নির্ধারণের গেজেট আংশিকভাবে বাতিল হলো।
ওই বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, রুল যথাযথ ঘোষণা করে ইসির নতুন গেজেট অবৈধ ঘোষণা করেছেন আদালত। এতে বাগেরহাটে চারটি ও গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসন বহাল থাকছে।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি আসন করে নির্বাচন কমিশনের গেজেট কেন অবৈধ হবে না, রুলে তাও জানতে চায় হাইকোর্ট।


