রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার দুপুরের পর বেইলি রোড থেকে শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান (অতিরিক্ত কমিশনার) শফিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তি নিউ গিনি প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে করা মামলার প্রধান আসামি। তবে ডিবির মিন্টু রোড কার্যালয়ে আনা শাহরিয়ারের বিস্তারিত নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি পুলিশ।
এর আগে একই ঘটনায় ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি শাহ আলম অনিককে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ডিবি জানায়, অনিক মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত ও ইব্রাহিমের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন এবং আন্ডারগ্রাউন্ড কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা ও যুবলীগ নেতা মাইনুল হোসেন নিখিলের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন জানান, শনিবার রাতে হামলার সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।
ঢাকা মেট্রাপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক জানান, নিউ গিনি প্রপার্টিজের জমি সংক্রান্ত দুই পক্ষের বিরোধের জের ধরে এই হামলা চালানো হয়। মূলত রাস্তা বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে এক পক্ষ লোক নিয়ে এসে হামলা চালালে সেখানে থাকা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, জমি দখলের উদ্দেশ্যে কিশোর গ্যাং ও ভাড়াটে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়। এতে তাদের প্রকৌশলী পারভেজ মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন এবং বেশ কয়েকজন নির্মাণশ্রমিক দগ্ধ ও আহত হন। হামলাকারীরা গুলি ছুড়ে প্রকল্পের ৫০ কোটি টাকার সম্পদ লুট ও ভাঙচুর চালায় বলে দাবি করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি এ তাণ্ডব চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ গেলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং গুলির শব্দ শোনা যায়।
হামলার পর সালমান মুক্তাদির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি জানান, হামলায় স্টুডিওর আসবাব, টেলিভিশন ও শুটিং সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্লায়েন্টদের গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ হারিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।


