২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। পুলিশের গুলিতে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যু ঘুরিয়ে দেয় কিছুদিন আগে থেকে চলমান কোটা আন্দোলনের মোড়। সেই দিনই রংপুরের পাশাপাশি ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়জন নিহত হন। আহত হন কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী-তরুণ।
এরপরই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। বদলে যায় আন্দোলনের গতিপথ। সরকারি চাকরিতে কোটাসংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন রূপ নেয় সরকার পতনের একদফা দাবিতে। শুরু হয় বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থান।
টানা কয়েকদিনের আন্দোলনের পর সে বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তোপের মুখে প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। সেই থেকে ১৬ জুলাই পালিত হচ্ছে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ২০২৪ সালে তীব্র হলেও এর শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। সে বছরও সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ হয়। দাবি মেনে নিয়ে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার।
তবে ২০২৪ সালে ৫ জুন হাইকোর্টের রায়ে ফের কোটা ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনলে রাস্তায় নেমে আসে তরুণ ছাত্র-জনতা। ২ জুলাই থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগ মোড় অবরোধ করে শুরু হয় দাবি আদায়ের লড়াই। ধীরে ধীরে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
১৪ জুলাই চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিষয়ে শেখ হাসিনাকে প্রশ্ন করা হলে তার ‘রাজাকার’ মন্তব্যে গভীর রাতে তোলপাড় হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাড়া। ঘটনা প্রবাহে ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ।

একই দিনে চট্টগ্রামে সংঘর্ষে নিহত হন এমইএস কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম, একই কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ এবং ফার্নিচার কর্মচারী মো. ফারুক। রাজধানী ঢাকার সায়েন্সল্যাব এলাকায় সংঘর্ষে প্রাণ হারান হকার মো. শাহজাহান ও সবুজ আলী।
১৬ জুলাইয়ের ঘটনার পর আন্দোলনের পরিধি দ্রুত বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে শুরু করেন।
আন্দোলনকারীরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিজিবি ও সেনা মোতায়েন করা হয়। সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পাশাপাশি আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থগিত করা হয় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাও।
জুলাইয়ের পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়ে রূপ নেয় সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে।
দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জুলাই শহীদ দিবস
জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে সকাল ৯টা ১ মিনিটে খুলনায় শিববাড়ি মোড়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, ওয়াসা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি, মহানগর জামায়াত ইসলামের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান ও বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন।
এ ছাড়া জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এ সময় জুলাই শহীদদের প্রতি সম্মান ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শহীদ পরিবারদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

একইভাবে চুয়াডাঙ্গায় সকাল সাড়ে ৯টায় হাসান চত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। শ্রদ্ধা জানান চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মো. রুহুল কবির, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আক্তার।


