ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। উৎপাদন ঘাটতির মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যখন চাপ বাড়ছে, তখন নতুন করে এই সংকট তৈরি হলো।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের একটি বন্ধ হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ আগে কেন্দ্রটি ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পর উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়।
কয়লা সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পর সম্প্রতি কেন্দ্রটির উৎপাদন বাড়ছিল। এর মধ্যেই এই কারিগরি ত্রুটি দেখা দিল।
বিপিডিবির সূত্র জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটি কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। আগস্টের শেষ দিকে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন হচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উৎপাদন আরও বেড়ে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়ায়। এর পরই একটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়।
বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটির উৎপাদনক্ষমতা ৮০০ মেগাওয়াট।
মেরামতে কয়েক দিন লাগতে পারে
সূত্র জানিয়েছে, আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিপিডিবি কর্মকর্তাদের ত্রুটির বিষয়টি জানিয়েছেন। ইউনিটটির বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
মেরামতের কাজ শুরুর আগে বয়লারটি ঠান্ডা হতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ফলে বন্ধ ইউনিটটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় শুরু হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। মোট উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ।
প্রয়োজনে কেন্দ্রটি বাংলাদেশে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে।
লোডশেডিং এখনো বেশি
আদানি কেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ার ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন আরও কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও জ্বালানি সরবরাহ ও কারিগরি সমস্যায় ভুগছে।
বিপিডিবির সূত্র জানিয়েছে, গ্যাসের সংকটে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমেছে। কয়লার সংকটের কারণে কয়েকটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রও সক্ষমতার চেয়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।
পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি সমস্যার কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। জেলার আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র কয়লার সংকটে রয়েছে। বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রেও পর্যাপ্ত কয়লা না থাকায় উৎপাদন কমেছে।
উৎপাদন ঘাটতির কারণে সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়।
শুক্রবার সকালে সারা দেশে ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং ছিল। ওই দিন সরকারি ছুটিও ছিল।
ফলে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বশেষ এই বিপর্যয় দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য আরও কঠিন সময়ে এল। বড় একটি উৎপাদন উৎস থেকে বিদ্যুৎ কমে যাওয়ায় বিদ্যমান ঘাটতি সামাল দেওয়ার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়েছে।


