নারীদের শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; প্রশিক্ষণের পর অর্জিত দক্ষতা কোথায় এবং কীভাবে কাজে লাগিয়ে তারা আয় করতে পারবেন, সেই পথও দেখাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
তিনি বলেছেন, বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে প্রশিক্ষণ দিলে সরকারি অর্থ ও প্রশিক্ষণার্থীদের সময় ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। তাই প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট খাতের চাহিদা, কাজের সুযোগ এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী সম্ভাবনা নিয়ে পরিকল্পনা ও গবেষণা থাকা প্রয়োজন।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ‘জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু আমাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমি ২০ জনকে প্রশিক্ষণ দিলাম–এই মানসিকতা যেন আমাদের না থাকে। যাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, প্রশিক্ষণের পর তাঁরা কোথায় কাজ করবেন, সেই চিন্তাটাও আমাদের থাকতে হবে।’
প্রশিক্ষণের বিষয় নির্ধারণে স্থানীয় বাজারের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার আর্থসামাজিক বাস্তবতা ও কাজের সুযোগ ভিন্ন। তাই একই ধরনের প্রশিক্ষণ সব জায়গায় কার্যকর নাও হতে পারে। কোন এলাকায় কী ধরনের দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, তা যাচাই করে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সাজাতে হবে।
এ ক্ষেত্রে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও সহযোগী বেসরকারি সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে একজন নারী যদি অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ না পান এবং হতাশ হয়ে পড়েন, তাহলে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণই শেষ কথা নয়। অর্জিত দক্ষতা নিয়মিত চর্চা করতে হবে এবং সময়ের সঙ্গে বাজার ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘মানুষের চাহিদা প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। আপনি যে পণ্য তৈরি করবেন, তাতে আপনার সময়, শ্রম ও বিনিয়োগ আছে। সেই পণ্যের বাজারে চাহিদা থাকতে হবে। তাই প্রতিদিন নিজের দক্ষতা কতটুকু বাড়ালেন, নতুন কী শিখলেন–সেটিও ভাবতে হবে।’
জেলা প্রশাসক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের নিজেদের দক্ষতা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের আয় শুরু করলে সেটি তার ব্যক্তিগত সফলতা। কিন্তু তার অর্জিত দক্ষতার মাধ্যমে আশপাশের আরও কয়েকজন নারী উপকৃত হলে সেই উদ্যোগের সামাজিক সার্থকতা তৈরি হয়।
সেলাই মেশিন পাওয়া নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি যখন এই সেলাই মেশিনটি পেলেন, তখনই এই কর্মসূচি সত্যিকার অর্থে সফল হবে, যখন আপনার কাছ থেকে আরও ১০ জন মানুষ প্রশিক্ষণ নেবে এবং তাঁদেরও জীবনমানের উন্নয়ন হবে।’
পরিশ্রম ও আত্মউন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের কর্মক্ষম সময় সীমিত। তাই সুযোগ ও সময়কে কাজে লাগিয়ে নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে। শুধু সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগও নিতে হবে।


