‘পাগলা শিয়ালের’ কামড়ে ২ উপজেলায় অর্ধশতাধিক আহত

‘পাগলা শিয়ালের’ কামড়ে ২ উপজেলায় অর্ধশতাধিক আহত
ফাইল ফটো
Advertisement
Advertisement

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও বাজিতপুর উপজেলার ছয়টি গ্রামে গত দুই দিনে এক পাগলা শিয়ালের কামড়ে নারী-পুরুষসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের পাশাপাশি শিয়ালটির আক্রমণে তিনটি ছাগল ও দুটি গরুও আহত হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কটিয়াদীতে ১৮ জন এবং বাজিতপুরে ৩৫ জন রয়েছেন। তাদের কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কটিয়াদীর মুমুরদিয়া ইউনিয়নের পাড়া মন্ডলভোগ গ্রামের আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ছকিনা বেগম (৫০), শামসুন্নাহার (৪৫), হারিছা বেগম (৩৪), পারভীন আক্তার (৩০), জোছনা আক্তার (৩৮), জরিনা বেগম (৩৭), সবুজ মিয়া (৫৫), কাশেম আলী (৪৫) ও বোরহান মিয়া (৩৮)।

অন্যদিকে বাজিতপুরে আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাইম মিয়া (২৫), উসমান মিয়া (৩৫), টেনাই মিয়া (৪৫), ইমন মিয়া (২৫), রুকসানা (৩৫), সখিনা খাতুন (৩৫), আকলিমা খাতুন (৪০), আনোয়ারা মিয়া (৫০) ও জামাল মিয়া (৪৫)।

বোয়ালিয়া তাহেরা নূর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক আবু সিদ্দিক বলেন, চান্দপুর ইউনিয়নের পাড়া মন্ডলভোগ গ্রামে একটি শিয়াল প্রথমে দুটি গরুকে কামড় দেয়। গরু বাঁচাতে এগিয়ে গেলে মালিকদেরও আক্রমণ করে। পরে আশপাশের অন্তত নয়জন নারী-পুরুষকে কামড়ে আহত করে।

আরও পড়ুন

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ মো. শাহরিয়ার বলেন, গত দুই দিনে শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, হাসপাতালে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা গেছে, কটিয়াদীতে মোট ২০-২৫ জন আহত হয়েছেন এবং অনেকে অন্য হাসপাতালেও চিকিৎসা নিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, কটিয়াদীর মন্ডলভোগ ও বাজিতপুরের সরারচর পাশাপাশি হওয়ায় একই শিয়াল সেখানেও বহু মানুষকে কামড় দিয়েছে।

বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনফরমেশন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার ১৫-২০ জন শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তি জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে বুধবার আমার জানামতে কেউ চিকিৎসা নিতে আসেননি।

ঘটনার পর দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, পাগলা শিয়ালটি এখনো শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। ফলে গ্রামবাসী সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিনের সরকারি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহীদুল্লাহ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর