গবেষণাপত্রে ব্যাপক হারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর লেখা শনাক্ত হওয়া এবং জাপানে স্বল্পমেয়াদি কাজকে পোস্টডক্টরাল অভিজ্ঞতা হিসেবে পদোন্নতি বোর্ডের সামনে উপস্থাপনের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শারমীন আক্তার শিমুর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।
রোববার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সভায় উপস্থিত একজন সিন্ডিকেট সদস্য জানিয়েছেন।
সিন্ডিকেট সদস্য বলেন, ‘সিন্ডিকেট রোববার শারমীন আক্তার শিমুর পদোন্নতি দেয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আলমকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক শরিফুল হুদা রিপন ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক জাহিদুর রহমান। সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মুহাম্মদ আলী রেজা। কমিটির অপর সদস্যকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত পদোন্নতি বোর্ডের সভায় শিমুর সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নিয়ে এসব অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি সিন্ডিকেটের নজরে আসে।
সিন্ডিকেট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের জার্নাল জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি এনভায়রনমেন্টাল বুলেটিনের ভলিউম ৯-এর ৭৭ থেকে ৯১ পৃষ্ঠায় শিমুর ‘অ্যাকসেসিং এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড মার্কেট পটেনশিয়াল অব জামদানী লুম ইন্ডাস্ট্রি: এ বেইজলাইন স্টাডি ইন রূপগঞ্জ অ্যান্ড সোনারগাঁও উপজেলাস, নারাণগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট’ শীর্ষক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, গবেষণাপত্রটির ৬২ শতাংশ লেখা এআই-নির্ভর বলে শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণাপত্রটির সহলেখক হিসেবে রয়েছেন একই বিভাগের মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন, ইকিউএমএস কনসাল্টিং লিমিটেডের সহকারী পরামর্শক আল-শাহরিয়ার খান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালট্যান্ট অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট লিমিটেডের গবেষণা কর্মকর্তা তাসলিমা জামান।
এদিকে, শিমুর পোস্টডক্টরাল অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জাপানের একটি গবেষণাগারে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের স্বল্পমেয়াদি কাজকে তিনি পোস্টডক্টরাল অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখিয়েছেন। এ কাজের ক্ষেত্রে কোনো অফার লেটার, অর্থায়নের উৎস বা সম্মানির তথ্য জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক সনদপত্রের পরিবর্তে জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব লো টেমপেরাচোর সায়েন্সের অধ্যাপক ইয়োশিতো চিকারাইশির স্বাক্ষরিত একটি ‘প্রত্যয়নপত্র’ পদোন্নতি বোর্ডকে জমা দেন অধ্যাপক শিমু। এতে ২০২২ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাজ করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতেই সময়কালটিকে গবেষণা অভিজ্ঞতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।


