গবেষণা-উদ্ভাবন ও জাতীয় উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুন।
তিনি জানান, গবেষণায় অর্থায়ন বাড়ানো, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণায় যুক্ত করা, উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ এবং শিল্প খাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অডিটোরিয়ামে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং শিক্ষকদের নির্বাচিত সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের পুরস্কার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়। নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রাখতে হবে। গবেষণার ফল শুধু প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবায় রূপান্তর এবং নীতিনির্ধারণে কাজে লাগানোর তাগিদ দেন তিনি।
গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি জানান, শিক্ষকদের গবেষণা প্রকল্পে আগে ২ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল, যা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা যেন গবেষণা প্রকল্প, মনোগ্রাফ বা অ্যাসাইনমেন্টের জন্য সরাসরি অর্থ পেতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া পিএইচডি গবেষকদের বৃত্তি ১৫টি থেকে বাড়িয়ে ১০০টি করা হয়েছে এবং আগামী বছর তা ৫০০টি করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পোস্টডক্টরাল বৃত্তির পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।
শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দে দেশের প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম জোরদারে প্রায় ৩০ কোটি টাকার তহবিল দেওয়ার তথ্য জানান। বিদেশে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষক ও গবেষকদের দেশে এনে পাঠদানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের সহযোগিতা বাড়াতে আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সহযোগিতা ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্ভাবনের জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল তৈরি করার তথ্য জানিয়ে ইউজিসি সদস্য বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরির জন্য নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্যও প্রস্তুত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের বিএসএস (সম্মান) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষকদের নির্বাচিত সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সহউপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।


