রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অপহৃত শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫

রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অপহৃত শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অপহৃত আট মাস বয়সী শিশু কাদেরকে উদ্ধার করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। অপহরণের পর ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং পরে শিশুটিকে দুই দফায় বিক্রি করার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে উখিয়ার বালুরমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের পশ্চিম মরিচ্যা এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এ সময় মায়মুনা আক্তার ও তার স্বামী নুরুল আমিনের হেফাজত থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমিন বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২ ওয়েস্টের বি-২ ব্লকের বাসিন্দা তৈয়বা বেগম (৩৫) তার সাত বছর বয়সী ভাগ্নি রেহেনা ও আট মাস বয়সী ছেলে কাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ওষুধ কিনতে কুতুপালং বাজারে যান। বাজারে ইউনুসের ওষুধের দোকানের সামনে গেলে তৈয়বার সাবেক স্বামী মো. রশিদ আলম (৩০) তার কাছ থেকে শিশু কাদেরকে ছিনিয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, শিশু কাদের তৈয়বা বেগম ও তার বর্তমান স্বামী মো. আমিনের সন্তান। রশিদ আলম উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকার মৃত সুলতান আহমেদের ছেলে। শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর রশিদ আলম তৈয়বার মোবাইল ফোনে ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে শিশুটিকে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

পরে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর রশিদ আলমকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২ ওয়েস্টের বি-২ ব্লকে তৈয়বার শেডে ডেকে আনা হয়। সেখানে রশিদ আলম জানান, তিনি ও তার বর্তমান স্ত্রী রুজিনা আক্তার (২৮) তাদের প্রতিবেশী তসলিমা আক্তারের (২৫) কাছে শিশুটিকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন।

পরে কৌশলে রশিদ আলমের মাধ্যমে তসলিমা আক্তার ও রুজিনা আক্তারকেও তৈয়বার শেডে ডেকে আনা হয়। বিষয়টি ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসি) কার্যালয়ের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হলে সংশ্লিষ্টদের ক্যাম্পে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, শিশু কাদেরকে উখিয়ার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মরিচ্যা এলাকার বাসিন্দা মায়মুনা আক্তার (২৯) ও তার স্বামী নুরুল আমিনের (৩৮) কাছে ৩০ হাজার টাকায় দ্বিতীয় দফায় বিক্রি করা হয়েছে। শিশুটি ওই দম্পতির হেফাজতে রয়েছে বলেও জানান তারা।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বালুরমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক ও অপারেশন অফিসার সুমন ভক্তের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পশ্চিম মরিচ্যায় মায়মুনা আক্তারের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে মায়মুনা আক্তার ও নুরুল আমিনের হেফাজত থেকে শিশু কাদেরকে উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন–রশিদ আলম (৩০), তার বর্তমান স্ত্রী রুজিনা আক্তার (২৮), তসলিমা আক্তার (২৫), মায়মুনা আক্তার (২৯) ও তার স্বামী নুরুল আমিন (৩৮)।

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমিন বলেন, ‘অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad