জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র্যাগিংয়ের দুটি ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের ২০ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের চলমান ও পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমানের সই করা পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেটের বিশেষ সভায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
একটি ঘটনায় ২০ জুলাই রাতে শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের র্যাগিং করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় গালাগাল, অমানবিক আচরণ ও কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় আট শিক্ষার্থীকে ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে ৫০ হাজার টাকা করে, তিনজনকে ৪৫ হাজার টাকা করে, একজনকে ৪০ হাজার এবং একজনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে জরিমানার পরিমাণ ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
অন্য ঘটনায়, ৩ জুলাই রাতে ইতিহাস বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৩ শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তাদের গালাগাল, কান ধরানো এবং ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে হয়রানি করা হয় বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ১২ শিক্ষার্থীকে জরিমানা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে ৩০ হাজার টাকা এবং ১১ জনকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এ ঘটনায় মোট জরিমানা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮’-এর ধারা ৩(২)(ঘ) অনুযায়ী এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা চলমান, টার্ম ফাইনাল বা পরবর্তী নির্ধারিত কোনো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে একই ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


