শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনবহির্ভূত টিউশন ফি আদায় বন্ধসহ আট দফা দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একক অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি মঙ্গলবারও চলে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী হাসিবুল হোসেন শান্ত নিজেকে জুলাই আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ‘জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে তিনি এ কর্মসূচি পালন করছেন। সংগঠনটির আহ্বায়কও হাসিবুল। তিনি এককভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও ইতিমধ্যে কয়েকজন তার সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
হাসিবুল টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টিউশন ফি নির্ধারণে অনিয়ম, অতিরিক্ত ফি আদায় ও বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা নিয়ে আট মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আবেদন করেছিলেন। তবে এখনো এর কোনো সমাধান হয়নি।
তিনি বলেন, পরে তিনি আদালতে রিট আবেদন করেন। আদালত এ বিষয়ে রুল জারি করলেও বিচারিক প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে। এ অবস্থায় নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপে দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য তিনি অবস্থান কর্মসূচিতে নেমেছেন।
আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার; বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার খরচের ভিত্তিতে টিউশন ফি নির্ধারণ এবং আইনবহির্ভূত ফি আদায় বন্ধ; রিটেক ফি মূল কোর্স ফির অর্ধেকে নামিয়ে আনা; এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষা-বাণিজ্য বন্ধ করা।
এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও কার্যক্রম বিবেচনায় সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গত দুই বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বাদ দেওয়ার দাবিও রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে শিক্ষার্থী হয়রানি ও নির্যাতন এবং তিন শিক্ষার্থীকে অন্যায়ভাবে সাময়িক বহিষ্কারের অভিযোগ তুলে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেছেন হাসিবুল।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই ও ক্যানটিনের সমস্যা, শ্রেণিকক্ষে নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থীকে ‘এ’ গ্রেড দেওয়াসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যা শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে।


