জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন নিউইয়র্ক সফরের সময় বোয়িংয়ের সঙ্গে কয়েক শ কোটি ডলারের উড়োজাহাজ ক্রয়সংক্রান্ত চূড়ান্ত চুক্তি সই হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
প্রত্যাশা অনুযায়ী আলোচনা শেষ হলে আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে চুক্তিটি সই হতে পারে। উড়োজাহাজগুলোর ধরন, মোট মূল্য, অর্থায়নের কাঠামো ও সরবরাহের সময়সূচিসহ বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
গত এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য বোয়িংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে। ওই চুক্তির মূল্য ৩৭০ কোটি ডলার বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র টাইমসকে জানিয়েছে, অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শুরু হয়েছিল। সূত্রটি বলেছে, ‘আশা করছি, নিউইয়র্কে চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে।’
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসন আগামী সপ্তাহে চুক্তিতে সই করতে পারেন।
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গর গত ৩০ আগস্ট জানান, বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও উড়োজাহাজ কিনতে কয়েক শ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে বাংলাদেশ আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে কয়েক শ কোটি ডলার ব্যয়ের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন এ প্রতিশ্রুতি ২০২৬ সালের এপ্রিলে বিমানের ৩৭০ কোটি ডলারে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির ধারাবাহিকতা।
বিমানের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি টার্বোপ্রপ, চারটি বোয়িং ৭৭৭, চারটি ৭৮৭-৮, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ।
চুক্তিগুলো সম্পন্ন হলে এটি হবে বিমানের ইতিহাসে বহরের সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ।
জাতিসংঘ অধিবেশনে ব্যস্ত সূচি
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে তারেক রহমানের সোমবার ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি নিউইয়র্কে চার রাত অবস্থান করে ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরতে পারেন।
২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। ভাষণে তিনি বহুপক্ষীয়তার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি তার সরকারের লক্ষ্য, অর্জন ও চ্যালেঞ্জগুলো উপস্থাপন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাবেন।
সেখানে বাংলাতেই ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ আয়োজিত দুটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং রোহিঙ্গা সংকট ও ধাত্রীসেবা নিয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত দুটি অনুষ্ঠানেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
অধিবেশনের ফাঁকে বৈঠক
বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সমন্বয় করছে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন।
কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, মালদ্বীপের ভাইস-প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগেসহ অন্য নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের কথা রয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্কসহ অন্যদের সঙ্গেও তার বৈঠক হতে পারে।
এসব সম্ভাব্য বৈঠকের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, হাইতি, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানদের সঙ্গেও তার বৈঠক হতে পারে।
বেসরকারি খাতের সঙ্গে যোগাযোগ
বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।
এর মধ্যে মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান, ভিওনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেপিমরগান আয়োজিত ‘ব্রেকফাস্ট মিটিং উইথ ওয়াল স্ট্রিট’-এ অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বৈঠক থাকতে পারে।
কেপিসি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান কালী প্রদীপ চৌধুরীসহ অন্যদের সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।


