সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা কমিয়ে জারিকৃত পরিপত্রের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে পরিপত্রে থাকা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা হ্রাস সম্পর্কিত বিধান স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল আদেশ দেয়। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর মুহাম্মদ আজমী।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট জারিকৃত পরিপত্রটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না এবং কেন পরিপত্রটির কার্যকারিতা স্থগিত করে পূর্ববর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগের মতো সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে আদালত।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা কমিয়ে জারিকৃত পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করা হয়। ১০ জন আইনজীবী-আইনের শিক্ষার্থীর পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির রিট করেন।
আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনে এ বছরের ২৭ আগস্ট জারিকৃত পরিপত্র বাতিলের দাবি করা হয়। আবেদনকারীদের বক্তব্য, উক্ত পরিপত্র বিদ্যমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এবং বাংলাদেশ বনাম আতাউর রহমান ও অন্যান্য মামলায় আপিল বিভাগের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এর আগে ২০২৫ সালের ২ মার্চ অনুরূপ একটি পরিপত্র জারি করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ ওই বছরের ৬ মার্চ তার কার্যকারিতা স্থগিত করে এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে ৯ মার্চ ওই পরিপত্রটি বাতিল করা হয়।
রিটে বলা হয়, আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা থাকার পরও নতুন পরিপত্র জারি করা বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে।
এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো লঙ্ঘিত হয়েছে। আবেদনে পরিপত্রটির কার্যকারিতা স্থগিত, তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা এবং পূর্ববর্তী নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশনা চাওয়া হয়।


