চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম নগরের নাসিরাবাদ দুই নম্বর গেট এলাকার কার্যালয়ে এই তথ্য জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা থেকে ৮টা ১৫ মিনিটের মধ্যে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে প্রধান সন্দেহভাজন পারভেজের মামা আজগর আলীর একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। পারভেজ এই চুরির পেছনে করিমকে সন্দেহ করে বাইকটি ফেরত চান, কিন্তু করিম চুরির বিষয়টি অস্বীকার করেন।
পরবর্তীকালে আসামিদের মাদক ব্যবসা ও পুরোনো বিরোধের জেরে পারভেজ ও সেলিমসহ অন্যরা করিমকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কৌশলে করিমকে কেরানীহাট বাজারে ডেকে আনা হয় ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা পাঁচ থেকে জন আসামি তাকে প্রথমে গুলি করে ও পরে ধারালো চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
এই হত্যার ঘটনায় জড়িত চারজনকে চট্টগ্রাম নগরী ও হাটহাজারী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন রাউজানের উরকিরচর এলাকার মো. সেলিম (৫০), সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮) ও মো. আলামিন (২৯)।
পুলিশ জানিয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী সেলিম এবং আলামিনকে হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শা থেকে এবং শুক্কুর ও জাবেদকে চান্দগাঁওয়ের কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই মামলার পলাতক আসামি পারভেজের একটি পরিত্যক্ত গরুর খামার থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা চাপাতি, দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরদিন নিহত করিমের স্ত্রী বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে রাউজান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবদল কর্মী করিম এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক ও ধর্ষণসহ অন্তত ১০টি মামলার আসামি ছিলেন। অন্যদিকে, হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও পলাতক আসামি পারভেজের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ প্রায় ১৮ থেকে ২০টি মামলা রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রাউজান থানা পুলিশ যৌথভাবে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে। গ্রেপ্তার চারজন সরাসরি এই হত্যায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।’
তিনি জানান, এই ঘটনায় জড়িত পারভেজসহ আরও দুই থেকে তিনজন আসামি এখনো পলাতক রয়েছে ও তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।


