চট্টগ্রাম নগরীর একটি জুয়েলারি দোকান থেকে ইমিটেশনের চুড়ি রেখে ৯৯ ভরির বেশি সোনার চুড়ি আত্মসাতের ঘটনায় দোকানের এক সেলসম্যানসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আত্মসাৎ করা ও বিভিন্ন স্থানে বন্ধক রাখা ৫৫টি চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া চুড়িগুলোর মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি, অর্থাৎ ১ হাজার ১৫৮ দশমিক ৩৩ গ্রাম।
শুক্রবার বিকালে পাঁচলাইশ মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পাঁচলাইশ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. সোহেল। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ও পরিদর্শক (তদন্ত) আবিদ উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দোকানের সেলসম্যান রোমেন দে (৩৬), মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্সের মালিক শ্যামল সিংহ, জয় দে ওরফে বাবু (২২), রনি দে (২৮), স্বপ্না দে (৫৫) ও ইমন দে (১৯)।
পুলিশ জানিয়েছে, নগরের প্রবর্তক মোড়সংলগ্ন মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’-এ প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন রোমেন দে।
গত ১৪ আগস্ট দোকানের সোনার মজুত হিসাব করার সময় ৫৩টি চুড়ি কম পাওয়া যায়। পরে সাতটি বাক্সে সোনার চুড়ির পরিবর্তে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছে বলে ধরা পড়ে। এ ঘটনায় দোকানের মালিক বিপ্লব বসাক পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন।
পুলিশের হিসাবে, প্রথমে আত্মসাৎ হওয়া ৫৩টি চুড়ির ওজন ছিল প্রায় ৯২৭ দশমিক ৫০০ গ্রাম বা ৭৯ দশমিক ৫১ ভরি। যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা।
মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ১৮ আগস্ট রাত ২টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন দে পুলিশকে জানান, আত্মসাৎ করা চুড়িগুলো তিনি বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছে রেখেছেন। এর মধ্যে ৪৬টি চুড়ি বাকলিয়ার মিয়াখান নগর রোডের মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্সের মালিক শ্যামল সিংহের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছিল।
পরে ১৯ আগস্ট বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স থেকে সাতটি সোনার চুড়ি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে শ্যামল সিংহ আরও ৩৯টি চুড়ি কোতোয়ালী, বাকলিয়া ও চকবাজার এলাকার বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছে রাখার তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেসব স্থান থেকে চুড়িগুলো উদ্ধার করা হয়।
সব মিলিয়ে ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এগুলোর মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি।
পাঁচলাইশ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. সোহেল বলেন, স্বর্ণ আত্মসাতের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আত্মসাৎ করা স্বর্ণ বিভিন্ন স্থানে বন্ধক রাখা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


