জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য পাওয়ার পথ বন্ধ

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য পাওয়ার পথ বন্ধ
Advertisement
Advertisement

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কে কোথায় চাকরি করছেন এবং তাদের বর্তমান চাকরির কি অবস্থা, তা সরাসরি জানার পথ বন্ধ করে দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি ‘জিইএমএস ডট গভ ডট বিডি’ নামের ওয়েবসাইট থেকে কর্মকর্তাদের নাম সরিয়ে নেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো পূর্ব ঘোষণা দেওয়া হয়নি, কেন এমন কাজ করা হয়েছে তারও কোনো ব্যাখ্যা মিলেনি।

এই ওয়েবসাইটে সাধারণত বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৬ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তার পদায়ন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও ওএসডি সংক্রান্ত সকল তথ্য উন্মুক্ত থাকত, যা যে কেউ দেখতে পারতেন।

ওয়েবসাইট থেকে কর্মকর্তাদের নাম সরিয়ে ফেলার কারণে সরকারের মধ্যে কতজনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, কতজনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে রাখা হচ্ছে–সে সম্পর্কে সঠিক চিত্র পাওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

তথ্য অধিকার কর্মীদের মতে, ওয়েবসাইট থেকে কর্মকর্তাদের নাম সরিয়ে ফেলা সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী। বর্তমানে ওয়েবসাইটে সব কর্মকর্তার তথ্য দেখার ব্যবস্থা বন্ধ করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রায় এক হাজারের বেশি ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তার নাম, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল অ্যাড্রেস দেওয়া হয়েছে, যাদের কাজ শুধু এই ওয়েবসাইট দেখাশোনা করা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হিসেবে উপসচিব শরিফুল ইসলামের নাম, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল অ্যাড্রেস দেওয়া রয়েছে। তবে কেন কর্মকর্তাদের নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে কর্মকর্তাদের নাম সরানো হয়েছে। তবে কেন এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা তার জানা নেই।

বিষয়টি নিয়ে সাবেক সচিব এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, এটি বন্ধ করা মোটেও ঠিক হয়নি। এর ফলে জনপ্রশাসনের কাজের স্বচ্ছতা কমল, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কী হচ্ছে না হচ্ছে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ আরও বাড়বে।

সরকারি ওয়েবসাইট থেকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরানোর ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রায় ২৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বার্ষিক প্রতিবেদন মুছে ফেলা হয়।

এর ফলে টানা তিন মেয়াদের সরকারের আমলের বিভিন্ন তথ্য এখন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একইভাবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অনেক তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।

রিসার্চ ইনিশিয়েটিভসের উপপরিচালক রুহি নাজ টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, সরকার যখন ই-গভর্ন্যান্সের দিকে যাচ্ছে, তখন সরকারি ওয়েবসাইট থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরিয়ে ফেলা সরকারের স্বচ্ছতা আনার প্রতিশ্রুতির বিপরীত।

তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে প্রকাশিত তথ্য সরিয়ে ফেলা তথ্য অধিকার আইনের পরিপন্থী। এভাবে ইচ্ছেমতো তথ্য সরিয়ে ফেলা সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা।

সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad