মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ২০২৬–২০৭৫ মেয়াদের ৫০ বছরের একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিভাগের শ্রেণি প্রতিনিধিদের (সিআর) সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের সেমিনার কক্ষে একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান ফরমুলেশন কমিটির আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান ফরমুলেশন কমিটির সভাপতি এবিএম শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর মো. আনিছুর রহমান।
এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা, যুগোপযোগী কারিকুলাম, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব একাডেমিক পরিবেশ। আগামী ৫০ বছরে মাভাবিপ্রবিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের, গবেষণানির্ভর ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে এই একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ পরিকল্পনায় শিক্ষার্থীদের মতামত ও প্রত্যাশাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের শিক্ষক, গবেষক, উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বের অংশ হবে। তাই তাদের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা সম্পর্কে জানা ছাড়া কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা প্রণয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা একটি বাস্তবসম্মত, সময়োপযোগী ও ভবিষ্যতমুখী মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করতে চাই।’
প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর আনিছুর রহমান বলেন, ‘৫০ বছরের একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান মাভাবিপ্রবির ভবিষ্যৎ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা। সময়ের সঙ্গে শিক্ষা ও প্রযুক্তির পরিবর্তন ঘটছে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে একাডেমিক কাঠামোতে প্রতিফলিত করতে হবে।’
সভায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান ফরমুলেশন কমিটির এক্সপার্ট সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজি বিভাগের অধ্যাপক কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ এবং কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সাইফুদ্দিন মো. তারিক একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া উপস্থাপন করেন।
এ সময় কমিটির সদস্য মাভাবিপ্রবির বিজিই বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম মহিউদ্দিন, সদস্য-সচিব বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের মো. খায়রুল ইসলাম, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মো. ফজলুল করিম, প্রক্টর মনির মোর্শেদসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিভাগের সিআররা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় সিআররা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ, বিভাগভিত্তিক সুযোগ-সুবিধা, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি সুবিধা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, কারিকুলাম আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিকীকরণ, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা, আবাসন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ আগামী ৫০ বছরের একাডেমিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।


