চট্টগ্রামের রাউজানে ফ্রিজে পচা ও বাসি খাবার সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রাখা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি এবং খাদ্যপণ্যে যথাযথ লেবেল না দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার রাউজান উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. রাহাতুল ইসলাম।
জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আল আকসা বেকারি ও আজমীর হোটেলকে ১ লাখ টাকা করে এবং গাউছিয়া হোটেল ও আপন বাড়ি রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
আল আকসা বেকারিতে অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন রং ব্যবহার, লেবেল ছাড়া বেকারি পণ্য সংরক্ষণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কেক ও বিস্কুট পাওয়ার কথা জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া নির্ধারিত নিয়মে খাদ্যপণ্যের লেবেলিং না করা, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরি, প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ও মান নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সনদ না থাকা এবং নিবন্ধন ছাড়া পণ্য উৎপাদনের অভিযোগ পাওয়া যায়।
বিস্কুট তৈরিতে হাইড্রোজ ব্যবহার করা হচ্ছিল বলেও অভিযানে পাওয়া গেছে। এসব অপরাধে বেকারিটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
আজমীর হোটেলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশন করা হচ্ছে। নোংরা পরিবেশে পরোটা তৈরির ময়দার ডো সংরক্ষণ এবং প্রস্তুত খাবার খোলা অবস্থায় রাখা হচ্ছিল।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবহেলার কারণে রান্নাঘরে তেলাপোকা ও মশা-মাছির উপস্থিতি ছিল। এ ছাড়া ফ্রিজে প্রচুর পচা ও বাসি খাবার পাওয়া যায়। অনিবন্ধিত অবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও ছিল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এসব অপরাধে আজমীর হোটেলকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
গাউছিয়া হোটেলের রান্নাঘরের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত না হওয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ কোমল পানীয় রাখা এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। যথাযথ লেবেল ছাড়া দই ও ফিরনিসহ বিভিন্ন খাবার রাখা হচ্ছিল। রান্না করা খাবার খোলা অবস্থায় মেঝেতেও রাখা ছিল। এসব অনিয়মের দায়ে হোটেলটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে আপন বাড়ি রেস্তোরাঁয় নিম্নমানের খাদ্যপণ্য ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খাদ্যকর্মীদের রান্নাঘরে কাজ করা এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবার যথাযথ প্যাকেজিং ও লেবেলিং ছাড়া একসঙ্গে সংরক্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়।
ফ্রিজে যথাযথ লেবেল ছাড়া ফিরনিসহ বিভিন্ন খাবার রাখা এবং রান্না করা খাবার খোলা অবস্থায় মেঝেতে রাখারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


