সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের হামলায় নিহত বাংলাদেশি মো. শাহেদ আহম্মদের মরদেহ দেশে এসেছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টারদিকে তার মরদেহ বহনকারী উড়োজাহাজ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর কার্গো গেটে মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ সময় শাহেদের স্ত্রী কহিনুর আক্তার কাকলী ও দুই সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে মরদেহ দাফন ও যাতায়াত বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে।

সেই সঙ্গে সৌদি আরবে শাহেদের কর্মস্থল সা’দ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানি তার বকেয়া বেতন-ভাতা ও সার্ভিস বেনিফিটের প্রায় নয় লাখ টাকা রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছে। এই অর্থ অতি শিগগিরই ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে নিহতের পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
নিহত শাহেদের স্ত্রী কহিনুর আক্তার কাকলী তার দুই শিশু সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। স্বামীর মরদেহ লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে ওঠানোর পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তার দুই শিশু সন্তানও মায়ের সঙ্গে কাঁদতে থাকে।
সাংবাদিকরা কহিনুরের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। কহিনুর আক্তার ও তার দুই ছেলেকে দ্রুত একটি কালো মাইক্রোবাসে তুলে দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করানো হয়। তারা লাশবাহী গাড়ির পাশাপাশি বগুড়ার শাহজাহানপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শাহেদ আহম্মদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানানো হয়।
গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শাহেদসহ ১৪ জন নিহত হন। তার বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। বাবার নাম মো. রফিকুল ইসলাম ও মায়ের নাম শাহেরা বেগম।
জানা গেছে, শাহেদ সৌদি আরবের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তার বৈধ কাজের অনুমতিপত্রও (ইকামা) ছিল। সম্প্রতি তার ভাই মারা যাওয়ায় তিনি ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। পরে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফেরার পথে বিমানবন্দরে হুথি হামলার শিকার হয়ে তিনি প্রাণ হারান।
ওই হামলায় আরও এক বাংলাদেশি নিহত হন। তার নাম মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরী। নাসরুল্লাহর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে।


