সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে।
শনিবার পঞ্চম দফায় দানবাক্স খুলে এ অর্থ পাওয়া যায়। এ ছাড়া মিলেছে স্বর্ণ, রুপা ও ১৮ ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা।
সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে টাকা গণনা শুরু হয়। কর্মচারী নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় আগের গণনার এক মাস আট দিন পর এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
মাজার কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এবার পাওয়া গেছে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা স্বর্ণ ও ৩ ভরি ১৩ আনা রুপা।
বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ২০ থাই বাত, ৯৩ সৌদি রিয়াল ও পয়সা, ১১ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, ১ হাজার ৩৫০ দশমিক ৫০ ওমানি বায়সা, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ১৫ মালদ্বীপের রুফিয়া ও ১৭ কাতারি রিয়াল ও পয়সা।
এ ছাড়া পাওয়া গেছে ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট, ১০০ বাহরাইনি পয়সা, ১০ হংকং ডলার, ১ কুয়েতি ডলার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল ও ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি। দানবাক্স ও ডেগে ভক্তদের বিভিন্ন দাবি ও আবেদনসংবলিত চিঠিও পাওয়া গেছে।
প্রতিদিন টাকা গণনার উদ্যোগ
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গঠিত কমিটি প্রতিদিন দানের টাকা গণনার সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য একজন ব্যবস্থাপক, হিসাবরক্ষক ও অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাদের দায়িত্ব হবে টাকা গণনা, হিসাব সংরক্ষণ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় প্রতিদিন টাকা গণনা শুরু হয়নি।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘নিয়োগপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ জন্য সিভি জমা হয়েছে। আশা করছি, আগামী মাসের মধ্যেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর মাজারের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে।’
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় দানবাক্স ও ডেগ খুলে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া যায়। সেদিন ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ ও ১৫ দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গিয়েছিল।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় দানের অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এ অর্থ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা থাকবে। বাকি ৬৫ শতাংশ ব্যয় হবে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায়।


