আমি স্পষ্টবাদী: তাসনুভা তিশা

আমি স্পষ্টবাদী: তাসনুভা তিশা
তাসনুভা তিশা
Advertisement
Advertisement

ছোট পর্দার পরিচিত মুখ তাসনুভা তিশা। অভিনয়জীবনের শুরুটা পরিকল্পিত না হলেও নিজের অভিনয়দক্ষতায় ধীরে ধীরে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। শিহাব শাহীন পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘আগস্ট ১৪’-তে তুশি চরিত্রে অভিনয় করে নতুনভাবে আলোচনায় আসেন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ‘মায়ার শহর’।

নাটকটিতে মায়া চরিত্রের মাঝে নিজেকে খুঁজে পান তিশা। তার ভাষ্যে, ‘মায়া জীবনের নানা কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও আশাবাদী থাকতে জানে। আমিও ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিকূলতার মধ্যেও ইতিবাচক দিক খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করি। চরিত্রটির সঙ্গে নিজের এই মিলই কাজটির প্রতি আমার ভালো লাগা বাড়িয়েছে।’

কাজ পাওয়ার জন্য নির্মাতাদের নিজ থেকে ফোন করার অভ্যাস নেই— দাবি তিশার। নির্মাতাদের সঙ্গে দেখা হলে অবশ্য মজা করে বলেন, ‘ভাই, কাজ করবেন না নাকি, ভুলে গেছেন?’ তবে তার বিশ্বাস, কোনো চরিত্রের জন্য তাকে প্রয়োজন হলে নির্মাতারাই যোগাযোগ করবেন।

‘আমি স্পষ্টবাদী, যা বলি সরাসরি বলি। আমার এই স্বভাব কাজের ক্ষেত্রে বেশ খারাপ প্রভাব ফেলছে,’ বলেন তিশা। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে কাজের গতি কমে যাওয়ার পেছনে এই স্বভাবের প্রভাব থাকতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

ইউটিউবের ভিউ, ট্রেন্ডিং কিংবা দর্শকসংখ্যার চেয়ে গল্প ও সংলাপকে বেশি গুরুত্ব দেন তিশা। তিনি বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া বা ট্রেন্ডিংয়ের জন্য এমন কিছু কখনো করব না, কেউ আমাকে দিয়েও করাতে পারবে না।’ তবে দর্শকসংখ্যা বাড়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখেন তিনি। তার মতে, নিম্নমানের নাটক নির্মাণের বদলে নির্মাতারা চাইলে আরও মানসম্মত কাজ করতে পারেন।

অভিনয়ের মাধ্যম নিয়েও বিশেষ কোনো বাছবিচার নেই তার। টেলিভিশন, ইউটিউব কিংবা ওটিটি—সব জায়গাতেই সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চান। তবে ওটিটিতে তুলনামূলক বেশি বাজেট থাকায় মহড়া ও চরিত্রের প্রস্তুতির সুযোগ বেশি থাকে বলে মনে করেন তিনি। তিশার কাছে ভালো গল্প, চিত্রনাট্য, দক্ষ নির্মাতা, সহশিল্পী ও পেশাদার দলের গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি কাজের আর্থিক বিষয়ে স্বচ্ছতাও চান তিনি।

আরও পড়ুন

চলচ্চিত্রে কাজের প্রসঙ্গে তিশা স্পষ্ট বক্তব্য, ‘শুধু বড় পর্দায় উপস্থিত হওয়ার জন্য সিনেমা করতে চাই না।’ বরং ভালো বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগ্রহ রয়েছে তার। নিজেকে খুব গ্ল্যামারাস মনে না করলেও চরিত্রের প্রয়োজনে সেভাবে উপস্থাপনের আত্মবিশ্বাস আছে। প্রতিষ্ঠিত নায়কদের সঙ্গে ভালো গল্পের চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পেলে আগ্রহী হবেন বলেও জানান তিনি।

নারী চরিত্রকে কেবল প্রেমের গল্পে আটকে রাখার প্রবণতা নিয়ে তিশার পর্যবেক্ষণ, দর্শক এখন দৈনন্দিন জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেতে হাস্যরসাত্মক ও রোমান্টিক-কমেডি নাটক বেশি পছন্দ করেন। তার মতে, দেশের পাশাপাশি বিশ্বের অধিকাংশ চলচ্চিত্র ও নাট্যশিল্প এখনো নায়ককেন্দ্রিক।

নারী শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার বিরোধিতা করেন তিনি। বিয়ে, বিচ্ছেদ, সন্তান কিংবা শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষকে অনুচিত মনে করেন এই অভিনেত্রী। তার ভাষ্যে, ‘পেশাগত কোনো অনিয়মের খবর প্রকাশ করা এক বিষয়, আর ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়কে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বানানো আরেক বিষয়। শিল্পী ও বিনোদন সাংবাদিকেরা একই দলের অংশ। তাই সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত, যেন শিল্পীদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নেতিবাচক ও অসম্মানজনক প্রচারণা বন্ধ হয়।’

অভিনয়ের পাশাপাশি সংসার ও সন্তানদের সময় দেওয়াও তিশার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শুটিংয়ের কারণে সন্তানদের জন্মদিন, অসুস্থতার সময় কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানে পাশে থাকতে না পারায় অপরাধবোধ কাজ করে। তিনি বলেন, ‘অপরাধবোধ নিয়ে কাজ ও সংসার সামলে চলতে হয়। আমার মনে হয়, কর্মজীবী মায়েরা এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন।’

ভবিষ্যতে পরিচালনায় আসার ইচ্ছাও রয়েছে তিশার। নাটক কিংবা অন্য ধরনের কাজ নির্মাণ করতে চান তিনি। তবে সে জন্য অভিনয়জীবন থেকে সরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় থাকবেন। তার কথায়, ‘সেটা তখনই, যখন আর অভিনয় করব না।’

‘আগস্ট ১৪’-এ তার অভিনীত চরিত্র ও কিছু দৃশ্য নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। তিনি অবশ্য কাজটিকে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বলে মনে করেন। ‘এখনো এই কাজের জন্য দর্শকদের কাছ থেকে প্রশংসা পাই, নেতিবাচক মন্তব্য নয়। কাজটি নিয়ে আমার কোনো অনুশোচনা নেই, বরং আমি খুবই আনন্দিত। অনেকেই আমাকে কাজটি না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি নিজের সিদ্ধান্তে কাজটি করেছি। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি খুশি।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad