বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য আবদুল মঈন খান মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় তার নির্বাচনী এলাকাসহ পুরো নরসিংদী জেলাজুড়ে বইছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
শুক্রবার নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তার শপথ গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই পলাশসহ পুরো জেলায় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা দেয়। স্থানীয় নেতাকর্মীরা আনন্দের অনুভূতি প্রকাশ করে মিষ্টি মুখ করেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, মঈন খান একজন অভিজ্ঞ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক। এর আগেও তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সময়ে পলাশ তথা নরসিংদীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষা-প্রযুক্তির অগ্রগতি হয়েছিল। পুনরায় তিনি মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ায় এই অঞ্চলসহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন।
পলাশ বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘মঈন খান মন্ত্রী হওয়াতে পলাশবাসীর আশার প্রতিফলন ঘটেছে। তার মতো একজন সুদক্ষ, সৎ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানুষের হাতে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় নিরাপদ। তার হাত ধরে এ দেশের সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন সম্ভব।’
ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলম মোল্লা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘মঈন খান তিনবার মন্ত্রী ছিলেন। এবারসহ পাঁচবারের এমপি ও চতুর্থবারের মতো মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। মঈন খান বিগত দিনে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে যেমন সামনের সারিতে ছিলেন, ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছায়াসঙ্গী হয়ে দেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলবেন বলে বিশ্বাস করি।’
নরসিংদী আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সারোয়ার হোসেন মৃধা জানান, মঈন খান মন্ত্রী হওয়ার খবর নরসিংদীবাসীর জন্য আনন্দের বিষয়। পলাশ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান পাপন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আজকে জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া পূরণ হয়েছে। আমাদের একটাই স্বপ্ন ছিল মঈন খান স্যারকে এমন একটি আসনে বসতে দেখার।”
মঈন খান ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে ১৯৭৩ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। রাজনীতিতে পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত হওয়ার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
তিনি নরসিংদী-২ (পলাশ) আসন থেকে একাধিকবার (১৯৯১, ১৯৯৬, মধ্যবর্তী, ২০০১ ও ২০২৫) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৩-১৯৯৬ মেয়াদে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, ২০০১-২০০২ মেয়াদে তথ্যমন্ত্রী এবং ২০০২-২০০৬ মেয়াদে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন। তার বাবা আব্দুল মোমেন খানও ছিলেন বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী।


