চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা দুর্ঘটনায় ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ হিসেবে জাহাজের ট্যাংকের পানিতে দ্রবীভূত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে বিশেষজ্ঞ দল।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের গঠিত বিশেষজ্ঞ দল জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত বা বিপজ্জনক পদার্থের উপস্থিতি পরীক্ষা করে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, বিষাক্ত পদার্থের ধরন ও ঘনত্ব রাসায়নিক পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নিশ্চিত হবে। ফল পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও তদন্ত কমিটির প্রধান এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজি বলেন, দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি ও কারিগরি দলের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত কারিগরি দলটি জাহাজের ট্যাংক থেকে পানি ও রাসায়নিকের নমুনা সংগ্রহ করে। বুধবার তারা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ জমা দেয়।
রিয়াজি বলেন, চোখে দেখে বা প্রচলিত পদ্ধতিতে জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি বা ধরন নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘ঝুঁকি থাকায় বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্র পরে ট্যাংকে প্রবেশ করেন। পানি ও রাসায়নিকের নমুনা সংগ্রহ করে বুয়েটসহ নির্ধারিত পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।’
পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রাসায়নিক পরীক্ষাগুলো খুবই কারিগরি ও সংবেদনশীল। নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তাই নির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব নয়। তবে যত দ্রুত সম্ভব ফল পাওয়ার চেষ্টা করছি।’
তদন্ত কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে পরীক্ষার ফল পেতে প্রয়োজনে আরও এক-দুই দিন সময় লাগতে পারে বলে জানান রিয়াজি।
তিনি বলেন, ‘কারিগরি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ের পর আরও এক-দুই দিন প্রয়োজন হতে পারে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
রিয়াজি বলেন, দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, ‘কারিগরি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফল পাওয়ার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। তখন জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি ও ধরনও নিশ্চিত করা যাবে।’
গত ১৪ আগস্ট চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুরোনো এলএনজিবাহী জাহাজ এমটি রাসি কাটার সময় ট্যাংকের ভেতরে কাজ করছিলেন শ্রমিকরা।
অসুস্থ হয়ে প্রথমে নয় শ্রমিক মারা যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইদ্রিস আলী (৫০) মারা যান। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়ায়।
বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খান বিশেষজ্ঞ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক পরিদর্শনে দুর্ঘটনাস্থলে হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থলে হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বাতাসে এখন আর গ্যাসটি নেই। তবে পানিতে এটি দ্রবীভূত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।’
অধ্যাপক ইয়াসির জানান, ট্যাংকের পানি বের করার সময় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে শ্রমিকরা বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে আসেন।
তবে নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ দলের এই পর্যবেক্ষণকে প্রাথমিক হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।


