চট্টগ্রামের খুলশী থানায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধরের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সময়সীমা আরও চারদিন বাড়ানো হয়েছে। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ২২ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর নির্দেশে এই সময় বাড়ানো হয়। এর আগে তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিএমপির পশ্চিম বিভাগের উপ-কমিশনার আলমগীর হোসাইন শিমুল টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, তদন্তের স্বার্থে এ পর্যন্ত মোট ২৯ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তল্লাশি প্রক্রিয়ায় তথ্য সরবরাহকারী কামরুজ্জামান একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও জানান, তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় কমিশনারের কাছে সময় চাওয়া হয়। পরে সেই আবেদন মঞ্জুর করে আরও চারদিন সময় বাড়ানো হয়। তদন্ত শেষে ঘটনায় জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে সিএমপির উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলামের সাম্প্রতিক বদলির সঙ্গে এই তদন্তের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান। তিনি বলেন, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ জুন রাতে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছে বিমানবন্দর থেকে সিএনজি অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন নাঈম হাসান। নগরীর লালখান বাজার এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় পুলিশ তার বহনকারী অটোরিকশা থামিয়ে কাগজপত্র তল্লাশি করে। অভিযোগ রয়েছে, পরে খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল হোসেন সরকার নাঈমকে গাড়ি থেকে নামিয়ে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন।
পরে তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে আরও হেনস্তা করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে বিসিবির কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে মুক্তি পান তিনি।
ঘটনার পর এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরদিন খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। পাশাপাশি পুলিশের সোর্স সোহেল হোসেন সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দামপাড়া পুলিশ লাইনসে হামলা এবং অস্ত্র-গোলাবারুদ লুটের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, নাঈম হাসানের বাড়ি চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার ফরিদারপাড়া এলাকায়। তিনি স্থানীয় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মাহবুব আলমের ছেলে। ঘটনার পর সিএমপি কমিশনার নাঈমের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।


