হংকংয়ের তাই পো এলাকায় ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ আগুনে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন উদ্ধারকর্মীও রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কমপক্ষে ১৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বুধবার বিকালে আগুন ধরার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো আবাসিক কমপ্লেক্সের আটটি ভবনে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন এবং ভেতরে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ভবনগুলো থেকে এখনো কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।

দেশটির ফায়ার সার্ভিস বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে ওয়াং চেয়ং হাউস ভবন থেকে আগুনের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
প্রথমে আগুনকে ‘নম্বর ১ অ্যালার্ম’ হিসেবে ধরা হলেও দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিকাল ৩টা ৩৪ মিনিটে তা ‘৪ নম্বর অ্যালার্মে’ উন্নীত করা হয় এবং সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটে হংকংয়ের সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘৫ নম্বর অ্যালার্ম’ ঘোষণা করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি, ভেতরে ঠিক কতজন আটকা পড়ে আছেন। হংকংয়ে এ ধরনের আগুনের ঘটনা শেষবার ঘটেছিল ২০০৮ সালে।
পুলিশ জানিয়েছে, আগুন লাগার পরপরই বহু বাসিন্দা ও স্বজনেরা ফোন করে সাহায্য চান। কেউ কেউ ভবনের ছাদে আটকা পড়ে আছেন বলে অভিযোগ করেন। ওয়াং তাই হাউস ও ওয়াং চেয়ং হাউসে কয়েকজনের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় তাদের খোঁজে অভিযান চলছে।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরও অনেক বাসিন্দা নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে পারেননি। অন্তত ১ হাজার ৯০০ পরিবারের জন্য আশপাশের বিদ্যালয়, কমিউনিটি সেন্টার ও স্পোর্টস সেন্টারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেওয়া হয়েছে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্বেচ্ছায় ভবন খুলে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে।
ফায়ার সার্ভিস বিভাগ জানিয়েছে, নিহত উদ্ধারকর্মীর বয়স ৩৭ বছর। বিকাল ৩টা ১ মিনিটে তিনি আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিছুক্ষণ পর সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় এবং পরে তাকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আরেক উদ্ধারকর্মীর তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা ভবনগুলোর বাইরের দেয়াল ঘিরে থাকা বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিংয়ে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জ্বলন্ত প্লাস্টিকের জাল ও বাঁশখণ্ড নিচে পড়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। ফলে ফায়ার সার্ভিসের ‘ফ্লোর সুইপিং’ করে প্রত্যেক ফ্ল্যাট খুঁজে দেখা সম্ভব হয়নি।

আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বছরখানেক ধরে চলমান বহির্ভাগ সংস্কার প্রকল্পে কর্মীদের ধূমপানের বিষয়ে বারবার অভিযোগ করা হয়েছিল।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বহু বাসিন্দা ফায়ার সার্ভিস বিভাগের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, কাছেই সমুদ্র থাকার পরও হেলিকপ্টার থেকে পানি ফেলা কিংবা ‘ওয়াটার বোম্ব’ ব্যবহারের মতো উদ্যোগ কেন নেওয়া হলো না।

এক নারী বলেন, ‘এটা যেন একের পর এক ভবন আগুনে পুড়তে দেখছি, কেউ থামাতে পারছে না। আমরা কি সবাই রাস্তায় রাত কাটাব?’
এদিকে ৭১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি কান্নায় ভেঙে পড়েন, কারণ তার স্ত্রী ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি জরুরি পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা কেন্দ্র সক্রিয় করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক জানিয়ে দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ ১৮৭৮৯৯৯ নম্বরে দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত অনুসন্ধানের হটলাইন চালু করেছে। হংকং রেড ক্রসও জরুরি মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য বিশেষ হটলাইন (৫১৬৪৫০৪০) খোলা রেখেছে।
একটি প্রাণী উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, আবাসিক ভবনগুলোতে অন্তত ১০০টির মতো পোষা প্রাণী আটকা পড়তে পারে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পোষা প্রাণী উদ্ধার করে ভেটেরিনারি ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে।
আগুনের কারণে তাই পো রোড, টোলো হাইওয়ে-সংলগ্ন স্লিপ রোডসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাস রুট পরিবর্তন ও কিছু রুট বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের বিকল্প পথে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


