খুলনা মহানগরীতে চার সাংবাদিককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। এই পরিস্থিতিতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সাংবাদিকদের সাবধানে চলাফেরা করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই এমন স্থানে আড্ডা না দিতে এবং রাতে চলাফেরার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাতে খুলনা মহানগরীর জাতিসংঘ শিশু পার্কের পাশে আড্ডা দেওয়ার সময় চারজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তারা বেঁচে যান। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন এসএ টিভির খুলনা ব্যুরো চিফ রকিবুল ইসলাম মতি, স্টার নিউজের ব্যুরো চিফ রফিকুল ইসলাম টুটুল, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের খুলনার প্রধান আওয়াল শেখ এবং দৈনিক আমাদের সময়ের ব্যুরো চিফ সৈয়দ রানা কবীর।
এই ঘটনার পর কেএমপি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ওই চার সাংবাদিকের মধ্যে ঠিক কাকে এবং কেন টার্গেট করা হয়েছিল, তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। যাকে টার্গেট করা হয়েছিল, প্রথমবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হামলার পর তার ওপর আবারও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে পুলিশ আশঙ্কা করছে।
বুধবার দুপুরে কেএমপি কমিশনার ও ডিবিপ্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। খুলনা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব আশঙ্কার কথা তুলে ধরে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাওয়া হয় এবং সাবধানে চলাফেরা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলা হয়, ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে ডিবি পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে পিআইবি। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এই কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওই এলাকার কয়েকটি স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
তবে ঘটনার সময় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সিসিটিভি ফুটেজে মোটরসাইকেলের নম্বর এবং দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, দৈনিক জন্মভূমি কার্যালয়ের সন্নিকটে শুটিং ক্লাবের সামনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। সেটি পাওয়া গেলে তদন্তে গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঘটনার সময় ওই এলাকায় সচল থাকা মোবাইল নম্বর অ্যানালাইসিস করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।


