গাজীপুরের কাপাসিয়ার আমরাইদ জেনারেল হাসপাতালে জরায়ুর টিউমার অস্ত্রোপচারের সময় আরিফা (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্বজনেরা। নিহত আরিফা উপজেলার নয়ানগড় গ্রামের দিনমজুর শামিমের স্ত্রী। তিনি দুই কন্যাসন্তানের জননী।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
স্বজনদের সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরের পর জরায়ুর টিউমার অপসারণের জন্য আরিফাকে আমরাইদ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিহতের খালাশাশুড়ি হুসনা জানান, বিকাল ৫টার পর রোগীকে স্যালাইন দেওয়া হলে তিনি কান্নাকাটি শুরু করেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) নেওয়া হয়। এর ১০ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে গেলেও ২০ মিনিট পর্যন্ত জেনারেটর চালানো হয়নি। স্বজনদের চিৎকারের পর জেনারেটর চালু করা হয়।
রাত ৯টা বাজলেও রোগী বের না করায় স্বজনেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তখন মামুন নামে এক চিকিৎসক জানান, রোগীর ‘হার্ট ব্লক’ হয়েছে। তাকে দ্রুত ঢাকার পপুলার হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। একপর্যায়ে রোগীকে নিচে নামানোর কথা বলে স্বজনদের অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সে আরিফার মরদেহ দ্রুত তুলে দেয়। স্বজনেরা দেখতে পান, ততক্ষণে আরিফার হাত-পা শক্ত হয়ে গেছে। পরে পুলিশ এসে কিছু কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে মরদেহ হস্তান্তর করে।
আরিফার শাশুড়ি বলেন, ‘আমার ছেলের বউ সুস্থ মানুষ ছিল। হেঁটে হাসপাতালে গেল, আর রাতে খবর পেলাম সে মারা গেছে। চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই ওটিতে তার মৃত্যু হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে আমরাইদ জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমদ জানান, অস্ত্রোপচারের সময় রোগী মৃত্যুর খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তবে রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ৩০ জুনের পর ওই বেসরকারি হাসপাতালটির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন মামুনুর রহমান জানান, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালেও এই আমরাইদ জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় তানিয়া আক্তার (১৯) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। ওই বছরের ২৫ এপ্রিল কাপাসিয়ার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসমত আরা হাসপাতালটি সিলগালা করে দিয়েছিলেন।


