স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ এবং শূন্য ঘোষিত বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন আয়োজনে জন্য আগামী সপ্তাহেই বৈঠকে বসতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া রমজান মাসের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন করার পরিকল্পনা চলছে।
এছাড়া সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে ইসি।
ইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি সাপেক্ষে আগামী সোমবার উপনির্বাচন ও সংরক্ষিত আসন নিয়ে আলোচনার জন্য ইসির বৈঠক হতে পারে।
তবে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেন সরাসরি কোনো তারিখ নিশ্চিত করেননি। তিনি জানান, এ ধরনের সভার সময়সূচি প্রধান নির্বাচন কমিশনারই নির্ধারণ করে থাকেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। অন্যদিকে, তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পর আসনটি শূন্য হয়েছে।
রমজানে সংরক্ষিত নারী আসন:
এদিকে রমজান মাসেই জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। গত বুধবার এক মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ জানান, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে ইসি সচিব আখতার হোসেন জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংসদ সচিবালয় থেকে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি।
সংরক্ষিত আসনের আইনি কাঠামো:
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ আসনে কতটি জয় পেয়েছে, তার সংখ্যানুপাতিক হারে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। অর্থাৎ সাধারণ আসনে দলীয় শক্তির ভিত্তিতে এই আসনগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়। সাধারণ হিসাবে ছয়টি সাধারণ আসনে জয়ের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বরাদ্দ করা হয়। তবে সংরক্ষিত নারী আসনে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না। সাধারণ নির্বাচনে জয়ী দলগুলোই সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেয়। ফলে সংরক্ষিত নারী আসনগুলো সম্পূর্ণভাবে দলভিত্তিক নির্বাচনি কাঠামোর ওপর নির্ভর করে।
নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন:
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠানের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলররা পদত্যাগ করলে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ করে। যদিও শুরুতে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তবে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপত্তির মুখে সরকার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দাবি করলেও এতে তীব্র আপত্তি জানায় বিএনপি। ফলে জামায়াত ও এনসিপি এক পর্যায়ে এই দাবি ত্যাগ করে।
বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া প্রায় সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানই প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


