সারা দেশে বিদ্যুৎ সংকটে ঢাকার বাইরের এলাকার মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমাতে এখন রাজধানী ঢাকাতেও লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাওয়ার গ্রিডের হিসেব অনুযায়ী, বুধবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীতে প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম সরবরাহ করা হয়। রাত ৯টার পর ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ ছিল না। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা বীথি আক্তার জানান, তার এলাকায় রাত ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমের মধ্যে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেই পারিনি। ঢাকায় এত দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং হতে আমি আগে কখনো দেখিনি।’ একইভাবে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা রাত…
Author: তৌফিক হোসাইন মবিন
রাজধানী ঢাকার আদাবর এলাকার বাসিন্দা মারুফ আহমেদের মে মাসের বিদ্যুৎ বিল ছিল তিন হাজার টাকা। জুনে তা প্রায় তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫০০ টাকা। অস্বাভাবিক এই বিল নিয়ে কয়েকবার বিদ্যুৎ অফিসে গেছেন মারুফ। সেখানে তাকে মিটার রিডিংয়ের ছবি দেখিয়ে বলা হয়েছে, বিল ঠিকই আছে। টাইমস অব বাংলাদেশকে মারুফ বলেন, ‘কীভাবে কী হয়েছে সেটাই বুঝতে পারছি না। সমাধানেরও কোনো সম্ভাবনা দেখছি না, বেশ কয়েকদিন তো আসলাম।’ জুনে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে জুলাইয়ে যে বিল এসেছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সারা দেশেই। কোথাও কোথাও তিন গুণ, কোথাও বা পাঁচ থেকে সাত গুণ বেশি বিলের অভিযোগ আসছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,…
রাজধানীর আদাবর এলাকার বাসিন্দা মারুফ আহমেদের মে মাসের বিদ্যুৎ বিল ছিল ৩ হাজার টাকা। জুনে তা প্রায় তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫০০ টাকা। অস্বাভাবিক বিল নিয়ে কয়েকবার বিদ্যুৎ অফিসে গেছেন মারুফ। সেখানে মিটার রিডিংয়ের ছবি দেখিয়ে তাকে বলা হয়েছে, বিল ঠিক আছে। টাইমস অব বাংলাদেশকে মারুফ বলেন, ‘কীভাবে কী হয়েছে সেটাই বুঝতে পারছি না। সমাধানেরও কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। বেশ কয়েকদিন তো আসলাম।’ জুনের বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য জুলাইয়ে দেওয়া বিল নিয়ে সারা দেশেই প্রশ্ন উঠেছে। কোথাও তিন গুণ, কোথাও পাঁচ থেকে সাত গুণ বেশি বিল আসার অভিযোগ রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অস্বাভাবিক বিল এলে তদন্ত করে…
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আয়নায় আগের সেই মুখ আর দেখেন না খোকন চন্দ্র বর্মণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে গুলিতে তার মুখমণ্ডল প্রায় বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ওপরের ঠোঁট, মাড়ি, নাক, তালু ও বা চোখের অস্তিত্ব নেই। সেই জায়গায় এখন বড় একটি গর্ত। পেশায় গাড়িচালক ছিলেন ২৩ বছর বয়সী খোকন। আন্দোলনের শুরু থেকেই যাত্রাবাড়ী এলাকায় ছিলেন। ৫ আগস্টও মিছিলে যোগ দেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আহত অবস্থায় একজনকে নিজের মুঠোফোনের লক খুলে দেন, যাতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। পরে সেই ব্যক্তিই ফোন করে বড় ভাই খোকা চন্দ্র বর্মণকে খবর দেন। এখন তার ঠিকানা মহাখালীর সাততলা স্টাফ মহল্লার ছোট্ট…
ক্ষতিগ্রস্ত ‘ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট’ (এফএসআরইউ) মেরামত করে আবার চালু করা হলেও বাংলাদেশে কাটছে না গ্যাসের সংকট। উৎপাদনের হিসাব, সরকারি কর্মকর্তা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন কূপ থেকে যে পরিমাণ গ্যাস তোলা সম্ভব হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক দ্রুত ফুরিয়ে আসছে দেশের পুরোনো গ্যাসফিল্ডগুলোর উৎপাদন। দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটিতে প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দেওয়ায় সংকট এখন চরমে পৌঁছেছে। স্বাভাবিক সময়ে দিনে যেখানে ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হতো, তা এখন নেমে এসেছে মাত্র ২১৫ কোটি ঘনফুটে। ফলে সারা দেশের বাসাবাড়ি, কারখানা আর বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এফএসআরইউ বন্ধ হওয়ার এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে এক…
রাজধানীর ইস্কাটনের গাউসনগরের বাসিন্দা আ ক ম ইকবাল হোসেনের জুন ও জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিলের যে পার্থক্য সেটি অস্বাভাবিক। জুনে বিল যেখানে ছিল ১১ হাজার ৫৩৭ টাকা, সেখানে জুলাইয়ে তা দাঁড়ায় ৩২ হাজার ৮২৫ টাকা। একই ভবনের রুফিজা খাতুনের বাসায় জুনের বিল ছিল ১ হাজার ৬৬৭ টাকা, জুলাইয়ে তা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৬৪ টাকা। সেই ভবনের সব বাসিন্দার ক্ষেত্রেই একই ঘটনা ঘটেছে। জুলাইয়ে বিদ্যুতের বিল ১৭ শতাংশ বাড়লেও সবার বিল দ্বিগুণের কাছাকাছি, ক্ষেত্রবিশেষে তিন গুণের কাছাকাছি এসেছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল বিলের এই কম বেশি হওয়ার কারণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্যের কারণে নয়। সেই বাড়ির কেয়ারটেকার শহীদুল…
বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে দেওয়ার সরকারের যুক্তি এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিই গ্রাহকদের কাছ থেকে বিলের প্রায় পুরো টাকাই আদায় করছে। ফলে বিল আদায় বাড়ানোর জন্য বেসরকারি অপারেটর প্রয়োজন—সরকারের এমন যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে পরিচালন ব্যয় বাড়বে, বিদ্যুৎ খাতের ঘাটতি আরও গভীর হবে এবং শেষ পর্যন্ত গ্রাহকপর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বা শুল্ক অনেকটাই বেড়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিতরণ কোম্পানিগুলোকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করলেই যে সেগুলো লাভজনক হয়ে উঠবে, তা নাও হতে পারে। কারণ, তাদের দক্ষতা বাড়ানোর যে সুফল…
সরকারি নির্মাণ কাজে ক্ষতিকর পোড়ামাটির ইটের ব্যবহার বন্ধের সময়সীমা পার হয়ে গেলেও এখনো এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেই। এর ফলে কোনো নজরদারি না থাকায় অবৈধ ইটভাটা থেকে প্রতি বছর বাতাসে মিশছে দেড় থেকে দুই কোটি টন কার্বন। আইনি বাধ্যবাধকতা থাকার পরেও এই নিয়ম কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর আগে সরকার ঘোষণা দেয়, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের মধ্যে রাস্তাঘাট ছাড়া অন্য সব ধরনের সরকারি নির্মাণ কাজে পরিবেশবান্ধব ‘না-পোড়ানো কনক্রিট ব্লক’ ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে এখনো সনাতন পদ্ধতির ইটই প্রধান নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। দেশজুড়ে সরকারি প্রকল্পগুলো এই নিয়ম কতটা মেনে চলছে,…
আমদানিনির্ভর জ্বালানির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় বেড়েই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার সৌরবিদ্যুতে জোর দিচ্ছে। কিন্তু অন্যদিকে আবার যন্ত্রপাতি আমদানিতে উচ্চ শুল্ক আরোপ করে এই খাতের বিকাশে বাধা তৈরি করছে। জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশে রুফটপ ও ডিস্ট্রিবিউটেড সোলার সিস্টেমে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ওপর উচ্চ আমদানি শুল্ক এই খাতের সম্প্রসারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মতে, বড় আকারের ইউটিলিটি স্কেলের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো আমদানি শুল্কে পূর্ণ ছাড় পেলেও রুফটপ সোলারে ব্যবহৃত ব্যাটারি, ডিসি কেবল, মাউন্টিং স্ট্রাকচার ও অন্যান্য যন্ত্রাংশে উচ্চ শুল্ক বহাল থাকায় ছাদভিত্তিক সোলার স্থাপনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ওপর কার্যকর আমদানি শুল্ক ৬১ দশমিক ৮…
নগর কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর মানুষের অসচেতনতায় ঢাকার ফুটপাতগুলো পথচারীবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি কখনও। যেন এর আরও অবনতি হচ্ছে দিনে দিনে। পরিস্থিতি এমন যে, যাদের হাঁটার জন্য এটি নির্মাণ করা, সেই পথচারীই সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় থাকে। কোথাও হকার, কোথাও দোকানের বর্ধিতাংশ, কোথাও গাড়ি মেরামত, কোথাও পার্কিং; মোটরসাইকেল চলাচল আরেক বিরক্তির কারণ, বাইসাইকেল চালকদের যেন ধারণাই নেই সেখানে তাদের ওঠার কথা নয়। এর মধ্যে নগর কর্তৃপক্ষ আবার দখলবাজিকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে, যেখানে ফুটপাতকে ভাড়ার বিনিময়ে বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি উচ্চ আদালতের নজরে এসেছে, সর্বোচ্চ আদালত থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তবে ফুটপাতে মোটরসাইকেল ঠেকাতে দেওয়া আদেশ এক দশকেরও বেশি সময় পরে…

