নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় লাঠিসোঁটাসহ এক বহিরাগতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পাসে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এর আগে রাতে হলের সিট অদলবদল নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাব্বির হাসানের অনুসারীদের মধ্যে এই বিরোধের সৃষ্টি হয়। দুপুরের দিকে একাংশের ওপর হামলা হলে তা পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা হাতে একাধিক বহিরাগতকে অংশ নিতে দেখা যায়, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক তৈরি করে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন ‘দৈনিক মানবজমিন’-এর প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম ও ‘প্রতিদিনের সংবাদ’-এর প্রতিনিধি মেহেদী হাসান। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদল কর্মীরা তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে জোরপূর্বক মোবাইল কেড়ে নেয় এবং ভিডিও ফুটেজ মুছে দেয়।
দুটি ভিন্ন দফার সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন আনিসুর রহমান সিফাত, শামীম হোসেন, সোহাগ চাকমা, মাহমুদুল হাসান অন্তর, কাইফ হাসান, জহির হোসেন, জাহিদুল ইসলাম হাসান ও সামিউল ইসলাম। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ও পরবর্তীতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাব্বির হাসান একে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অভিযোগের কথা জানান। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থার কথা জানান এবং সভাপতি জাহিদ হাসানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী, উপউপাচার্য ও প্রক্টরসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
উপাচার্য জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি।


