পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি করে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, এ আদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ও প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী।
সালাহউদ্দিন আহমেদকে গুমের অভিযোগে জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে গত ৬ আগস্ট আবেদন করে প্রসিকিউশন। ১০ আগস্ট ওই আবেদনের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে এবং তাকে হাজির করার নির্দেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে, ২০২৫ সালের ৩ জুন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে নিজের গুম হওয়ার অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। অন্য ছয় আসামি হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয়। একই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে তার সন্ধান পায় স্থানীয় পুলিশ। সালাহউদ্দিনকে আটক করার পর বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে দেশটির ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা করা হয়। এরপর ২০১৮ সালে শিলং আদালত এবং ২০২৩ সালে আপিল আদালত তাকে খালাস দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।


