দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত বা শাস্তি না দিয়ে, যে প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্নীতি সংঘটিত হচ্ছে, সেটি পরিবর্তন বা অপসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও কার্যকর করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরকারদলীয় কয়েকজন সদস্য কমিটিকে ‘অলংকারিক কমিটি’ হিসেবে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় সদস্য।
রোববার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, মো. জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও মো. আবুল হাসনাত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে দুর্নীতি প্রতিরোধে সরাসরি যোগাযোগের (ফিজিক্যাল কন্ট্যাক্ট) ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। এতে ব্যবসায়ীদের ব্যয় ও হয়রানি কমার পাশাপাশি ব্যবসার পরিবেশ সহজ হবে এবং সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে মত দেওয়া হয়। এ ছাড়া হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে সরকারি কাজের দক্ষতা ও কার্যকারিতা আরও বাড়বে বলে বৈঠকে অভিমত দেওয়া হয়।
বৈঠকে সরকারের ব্যয় নির্বাহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সক্ষমতা, কর-জিডিপি অনুপাতের ব্যবধান কমাতে গৃহীত পদক্ষেপ এবং এনবিআরের সাংগঠনিক কাঠামো ও করণীয় বিষয়ে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এসব বিষয়ে কমিটির সদস্যরা আলোচনায় অংশ নেন।
এদিকে বৈঠক শেষে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি যথাযথভাবে কাজ করছে না।
বিরোধী দলীয় সদস্য মো. আবুল হাসনাত সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাঠামোগত সংস্কার, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাতসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী ও এনবিআরের কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিলেও সরকারদলীয় কয়েকজন সদস্যের অসহযোগিতার কারণে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে বন্দর, ব্যাংক ও এনবিআরের মধ্যে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। তবে কোনো এজেন্ডাতেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া করের আওতা বাড়ানো, কমলাপুর ডিপোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার বিষয়েও বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


