অডিট ছাড়াই ১০ মাস, রাকসুর আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

অডিট ছাড়াই ১০ মাস, রাকসুর আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় | ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) যাবতীয় কার্যক্রম তদারকির জন্য গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বছরে দুইবার অডিট কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা। তবে চলতি মেয়াদে রাকসুর ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো অডিট হয়নি। ফলে রাকসুর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রাকসুর গঠনতন্ত্রের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি কর্তৃক মনোনীত দুইজন শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষকে নিয়ে অডিট বোর্ড গঠিত হবে। এই বোর্ড বছরে দুইবার রাকসুর হিসাব নিরীক্ষা করবে। রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) অডিট বোর্ডের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, তবে তিনি বোর্ডের সদস্য থাকবেন না।

কিন্তু গঠনতন্ত্রের এই নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না কেউ। এক্ষেত্রে দায়িত্বে আসা নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্টরা আদৌ গঠনতন্ত্র জানেন কি না, এমন প্রশ্নও উঠছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাকসুর বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, অডিট না হওয়ার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ নেই।

তবে মেয়াদ শেষে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী অডিট টিমের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান টাইমসকে বলেন, গঠনতন্ত্রে বছরে দুইবার অডিট করার কথা থাকলেও বাস্তবতা হলো দীর্ঘদিন রাকসু বন্ধ ছিল। আমরা নতুন করে কার্যক্রম শুরু করার পর সবকিছু বুঝে উঠতে এবং বাজেট পেতেই প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছে। ফলে প্রথম ছয় মাসে রাকসুর কার্যক্রম সেভাবে শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী ছয় মাসে কার্যক্রমগুলো শুরু হয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে অডিট করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন

রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, বিভিন্ন কারণে আমাদের কার্যক্রম শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি আমার জায়গা থেকে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

এদিকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অডিট না হওয়ায় রাকসুর অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো।

গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মুখপাত্র ও শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, রাকসু সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় রাখতে পারেননি। একই সঙ্গে বছরে দুইবার অডিট করার নিয়মও বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে আলোচিত ভাউচার অনিয়মের দায় রাকসুর এই দুই কর্তাব্যক্তির ওপরও বর্তায়।

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, নিয়মিত অডিটের হিসাব প্রকাশ ও উপস্থাপন না করা হলে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এরই মধ্যে অর্থ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগও সামনে এসেছে। তাই রাকসুর অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং বর্তমান কোষাধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ বলেন, নিয়মিতভাবে ছয় মাস পরপর অডিট করা হলে বর্তমানে ভাউচার নিয়ে যে প্রশ্ন ও সংকট তৈরি হয়েছে, তা হয়ত এতটা বড় আকার ধারণ করত না। অডিট না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাকসুর আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাকসুর নেতারা কোটি টাকার অধিক বরাদ্দ গ্রহণ করলেও ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকা খরচের বিল-ভাউচার জমা দেননি। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে তীব্র আলোচনা- সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad