গন্তব্যহীন এক ফুট ওভারপাস

গন্তব্যহীন এক ফুট ওভারপাস
ছবি: জাকির হোসেন
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামের জাকির হোসেন রোডের ডায়াবেটিক হাসপাতালের সামনের পথচারী পারাপারের ওভারপাসটি গত ছয় বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় কোনো কাজেই আসছে না। ওভারপাসের সাধারণ সিঁড়ি খোলা আছে এবং একটি চলন্ত সিঁড়িও চালু করা সম্ভব, তবুও মানুষ এটি ব্যবহার করছেন না। চালক ছাড়া চলন্ত সিঁড়ি বন্ধ থাকলেও পথচারীরা ওপর দিয়ে না গিয়ে নিচ দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত রাস্তা পার হচ্ছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি) ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা খরচ করে ৬৫ ফুট লম্বা ও ৯ ফুট চওড়া এই ওভারপাসটি বানিয়েছিল। ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এটি উদ্বোধন করেন।

ছবি: জাকির হোসেন

স্থানীয়রা জানান, শুরুর দিকে মাত্র দুই মাসের মতো চলন্ত সিঁড়ি চলেছিল। এরপর করোনা মহামারি শুরু হলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা আর কখনোই চালু করা হয়নি।

সিসিসি’র কর্মকর্তারা জানান, বেশি বিদ্যুৎ খরচ হওয়ার কারণেই চলন্ত সিঁড়ি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সুযোগ থাকলেও কেউ তা ব্যবহার করতে চান না। কারণ, রাস্তার মাঝের সড়ক বিভাজক বা ডিভাইডারটি খোলা রয়েছে, ফলে মানুষ সহজেই নিচ দিয়ে পার হতে পারছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোগী, স্বজন ও অন্য পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলন্ত গাড়ির মাঝখান দিয়েই রাস্তা পার হচ্ছেন। দেখভালের অভাবে ওভারপাসটি নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে এখানে মাদকসেবী ও অপরাধীদের আড্ডা বসে এবং ইতিমধ্যে কিছু জিনিসপত্র চুরিও হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

ছবি: জাকির হোসেন

নগর পরিকল্পনাবিদ সুভাষ বড়ুয়া বলেন, ‘তৈরির পরিকল্পনার সময়ই এটি কতটুকু কাজে আসবে তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। এটি একটি অপরিকল্পিত কাজের উদাহরণ।’ সিসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোহেল বলেন, আসল ভুলটি হয়েছিল জায়গা বাছাইয়ে।

তিনি বলেন, ‘ডায়াবেটিস হাসপাতালের সামনে ওভারপাস করার সিদ্ধান্তটিই ভুল ছিল। নিচ দিয়ে সহজে পার হওয়ার সুযোগ থাকায় কেউ কষ্ট করে ওপরে উঠতে চান না।’

ছবি: জাকির হোসেন

তিনি আরও জানান, অচল চলন্ত সিঁড়িটি খুলে অন্য কোথাও লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুমতির আবেদন পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মানুষকে ওভারপাস ব্যবহারে বাধ্য করতে রাস্তার মাঝের খোলা অংশটি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। সৌন্দর্য বাড়াতে সেখানে বিভাজক ও ফুলের টব বসানো হতে পারে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হোসেন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া জানান, তারা জায়গাটি পরিদর্শন করে রাস্তার মাঝখানে ডিভাইডার বসানোর ব্যবস্থা করবেন, যাতে মানুষ ওভারপাস ব্যবহার করতে উৎসাহিত হন।

ছবি: জাকির হোসেন

তবে আপাতত এটি ভুল পরিকল্পনার এক দামি উদাহরণ হয়েই দাঁড়িয়ে আছে। সিঁড়িগুলো খালি পড়ে আছে, চলন্ত সিঁড়ি বন্ধ এবং যে উদ্দেশ্যে এটি বানানো হয়েছিল তা সফল হয়নি। নতুন ডিভাইডার বসালে বা সংস্কার করলে এটি সত্যিই মানুষের কাজে আসবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad