শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার ও সমাজের সব স্তর থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিবেকবান মানুষের নীরবতা সমাজকে আরও অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। ‘মাদকমুক্ত সমাজ, আমাদের অঙ্গীকার’ স্লোগানে উপজেলা প্রশাসন এ সমাবেশের আয়োজন করে।
মাদকের বিস্তার সমাজব্যবস্থাকে ভেঙে দিচ্ছে উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এখনই মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের কোনো সন্তান মাদক গ্রহণ করুক, তা হতে দেওয়া যায় না।’
মাদককে সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিজের ওপরই নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না। তিনি কখন খুন, চুরি বা ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়বেন, তা আগে থেকে বলা যায় না। সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে হবে।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা যেভাবে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের দাবিতে দাঁড়িয়েছিলেন, একইভাবে সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনিক অভিযান ও আইনের প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তথ্য দিন, আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। মাদকের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।’
তবে শুধু প্রশাসনিক অভিযান যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে। শুধু শিক্ষিত ও সম্মানিত পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সচেতন নাগরিকদের প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের সামনে আদর্শ হিসেবে নিজেদের উপস্থাপনের আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, শুধু মাদক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিলে হবে না। অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের এমনভাবে চলতে হবে, যাতে তাঁদের দেখে তরুণেরা অনুপ্রাণিত হয়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম, ভাটেরখীল উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এজহারুল ইসলাম, সমাজসেবক মো. শহিদুল ইসলাম ও ছাত্র প্রতিনিধি সাজ্জাদ সাকিল।


