বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী বছরের ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
রোববার প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তিনি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও তিন মাস সময় চান।
এদিন মামলার আসামি বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অপর আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি হাজিরা দেন।
গত ৯ আগস্ট ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ২৩ আগস্ট তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে। গত ২১ জুন দেওয়া ওই জবানবন্দিতে তার নাম উল্লেখ করা হয়।
এরপর ২৬ জুলাই রাতে বাসা থেকে সাইফুর রহমানকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট)। পরে তাকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, ২০১২ সালের এপ্রিলে ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ অন্যদের ভূমিকাও তদন্ত করা হচ্ছে।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশে ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, এ ঘটনায় তৎকালীন র্যাবের গোয়েন্দা শাখা সরাসরি জড়িত ছিল। সে সময় বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন।


