ফরিদপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের পর ‘পেটে গজ রেখে সেলাই’ করায় মৃত কনিকার বাড়ি পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার সকালে সড়ক পথে নিহত কনিকা মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানান। তিনি তার নিজ তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা শোকাহত পরিবারের হাতে তুলে দেন।
কনিকা রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী। ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপারেশনের এক মাস ২০ দিন পর বুধবার রাত সোয়া ২টায় ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মণ্ডল (৩৫) নামে ওই রোগীর মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাসুর সমির মন্ডল জানান, গত ২৯ জুন সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কনিকা মন্ডল ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাসন্তান প্রসব করান। পরদিন থেকেই কনিকার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়।
পরে গত ৩ জুলাই তাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বামীর দাবি, ৭ জুলাই চিকিৎসক আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কনিকার পেটে গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। ওইদিনই অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে গজ বের করা হয়।
এরপর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন কনিকা। বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই ঘটনা প্রকাশিত হলে তা স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেনের নজরে আসে। তার নির্দেশে বৃহস্পতিবার ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এসময় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, রাজবাড়ী সিভিল সার্জন এসএম মাসুদ ও ফরিদপুর সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফারুক হোসেনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।


