মেহেরপুরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের দায়ে ইউপি সদস্যের যাবজ্জীবন

মেহেরপুরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের দায়ে ইউপি সদস্যের যাবজ্জীবন
দন্ডিত পিরোজপুর ইউপি সদস্য কলিম উদ্দিন কালু। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

মেহেরপুরে ধর্ষণ দায়ের পিরোজপুর ইউপি সদস্য কলিম উদ্দিন কালুকে (৫১) যাবজ্জীবন সশ্রম কারদণ্ড দিয়েছে আদালত।

রোববার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন আদালতের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ দণ্ডাদেশ দেন। একই সঙ্গে আসামিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাবাস ভোগ করতে হবে।

এছাড়াও রায়ে বলা হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন জেলা প্রশাসক আসামী কলিম উদ্দিন কালুর স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ নিলামে বিক্রি করবেন। বিক্রির পরে ঐ টাকা ভিকটিমকে দিবেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত কলিম উদ্দিন কালু মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের বাসিন্দা। পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

রায় শোনার পরই আসামী কলিম উদ্দিন কালু আদালত প্রাঙ্গণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর আসামি কলিম উদ্দিন কালু একজন প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ করেন। ঐ নারী চিৎকারে করলে পালিয়ে যায় কালু। যাওয়ার সময় বিষয়টি কাউকে না জানানোর হুমকি দেন।

২১ ডিসেম্বর ঐ নারীর মা বাদি হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই খান মারুফুল ইসলাম আদালতে চার্জশীট জমা দেন।

এছাড়াও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারী ভিকটিমের পরিহিত কাপড় চোপড় ঢাকার সিআইডিতে পাঠানো হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মেলে।

মামলাটিতে ১৩ জন স্বাক্ষ্য দেন। সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমানিত হওয়া বিচারক এ রায় দেন। মামলাটিতে সরকারী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পাবলিক প্রসিকিউটর মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন, পল্লব ভট্টাচার্য, ইব্রাহমী শাহীন ও এ.কে.এম শফিকুল আলম।

পাবলিক প্রসিকিউটর মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ইউপি সদস্য কলিম উদ্দিন কালু ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। এছাড়ও চলতি ইউপি সদস্য হওয়ায় নানাভাবে মামলাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি বাদিপক্ষের সাথে আপোষের চেষ্টা করেছেন। হুমকি প্রদান করে আদালতে স্বাক্ষ্য দিতে বাধা প্রদান করেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad