চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের পক্ষে প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। সেই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, মেডিকেল রিপোর্ট ও আসামির জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় মামলার একমাত্র আসামি মো. মনির হোসেনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চার্জশিটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে। সেখানে ধর্ষণের পক্ষে ‘পজিটিভ সাইন’ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া শিশুটির মেডিকেল রিপোর্ট, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং আদালতে দেওয়া আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও অভিযোগপত্রের ভিত্তি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘আমরা ডিএনএ রিপোর্ট পেয়েছি এবং সেখানে ধর্ষণের পজিটিভ সাইন পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই আমরা চার্জশিট দিয়েছি।’
পুলিশ বলছে, সাধারণত এ ধরনের মামলায় বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহ ও যাচাইয়ে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। তবে এই ঘটনায় শুরু থেকেই তদন্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি তাদের।
ওসি সোলাইমান বলেন, ‘সিএমপি পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, ডিসি দক্ষিণ, এডিসি দক্ষিণ এবং এসি চকবাজারসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা অনেক সহযোগিতা করেছেন। জনগণের প্রত্যাশা থেকেই আমরা দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দ্রুত সময়ে বিভিন্ন রিপোর্ট সংগ্রহ করা। মেডিকেল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সহযোগিতা করেছে বলেই কাজটি দ্রুত শেষ করা সম্ভব হয়েছে।’
গত ২১ মে নগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের ওই শিশু ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। একই দিনে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মনির হোসেন আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
তবে আসামিকে গ্রেপ্তারের সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা চালান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে পৃথক মামলাও করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে তারা।


